সবচেয়ে শক্তিশালী জনগণের সিন্ডিকেট: টিপু মুনশি

সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই টিকতে পারবে না মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জনগণের সিন্ডিকেটই সবচেয়ে শক্তিশালী।

তিনি বলেন, ‘সরকার বা সিন্ডিকেট শক্তিশালী নয়। জনগণের সিন্ডিকেট সবচেয়ে শক্তিশালী। ভোক্তাদের সচেতন ও প্রতিবাদী হতে হবে।

‘আর সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই টিকতে পারবে না।’

শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসায় যখন আমদানির অনুমতির সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, তখন ডিমের দাম কমে গেলো।

‘মাত্র ৬২ হাজার ডিম আমদানির পর প্রতি ডজনে আরো ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে গেলো। আলুর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।’

এর মানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে বাজারজাত করছে না।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে পিঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার জন্য বলা হলেও কৃষকের কথা ভেবে অনুমতি দেয়া হয়নি। পরে যখন অনুমতি দেয়া হলো তখন ভারত ৪০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করলো।

‘এর কিছুদিন পরেই আবার প্রতি মেট্রিকটন পিঁয়াজ রপ্তানি আটশো ডলার করে, যে কারণে সরকার নির্ধারিত দাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।’

চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর পরও দাম না কমা প্রসঙ্গে টিপু মুনশি বলেন, ডলারের মূল্য আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেসব পণ্য আমদানি করতে হয় সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজার বা ডলারের মূল্যের উপর নির্ভর করে। আমরা চাইলেও সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারি না।

‘আমরা যেটা পারি, সেটা হলো শুল্ক কমাতে। যেমন- চিনির দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দামে কোনো প্রভাব পড়েনি বরং বেড়েছে। ফলে, এর সুফল ভোক্তা পায়নি।’

দেশে মাংস আমদানি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ বিবেচনায় মাংস আমদানির পরিকল্পনা সরকারের নেই।

‘মাংস আমদানি করলে দেশের মানুষকে ৪০০-৪৫০ টাকায় খাওয়ানো সম্ভব। কিন্তু আমরা সব সময় দেশের খামারিদের কথা ভেবেছি যে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক।’  

তিনি আরো বলেন, কোরবানির অর্ধেক গরু ভারত থেকে আমদানি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে একটি গরুও আমদানি করতে হয় না বরং উদ্বৃত্ত থাকে। এ খাতে অনেক নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। অনেকে চাকরি না করে গরুর খামার দিচ্ছে।

দেশের খামারিদের কথা বিবেচনায় আপাতত মাংস আমদানি করতে চাই না বলেও মন্তব্য করেন টিপু মুনশি।