নতুন বছরে ব্যাংকখাতে আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তারল্য সঙ্কট, বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ, ডলারের স্বল্পতা কাটানোকেই নতুন বছরে ব্যাংকখাতের বড় কাজ মনে করছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রেখে আমানতকারীদের ব্যাংকমুখী করার চেষ্টা ও সুশাসন নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।
ডলার-সংকটের মধ্য দিয়েই গেল বিগত বছরটা। ডলারের কাগজে কলমে দাম বছরের শুরুতে ছিল ১০৩ টাকা, যা বেড়ে শেষে হয়েছে ১১০ টাকা, সেটিও কাগজেই। বেড়েছে টাকার সংকটও।
সংকটের সময়ে পরিত্রাণ কর্তা হিসাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ঋণ ব্যাংকখাতে সংস্কারের চাপ তৈরি করেছে। এতে সুদ হারের ৬-৯ নীতি থেকে সরে কিছুটা বাজারমুখী ব্যবস্থায় গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ডলারের দামও বাজারভিত্তিক করার চেষ্টা করছে।
বছরভর শরিয়াভিত্তিক ও প্রচলিত ধারার কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম ছিল লাগামছাড়া। সব মিলিয়ে গেল বছরটা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে ব্যাংকখাত।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের চ্যালেঞ্জসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ছিলো এ বছর। যার নেটওয়ার্ক বেশি, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম, প্রবাসী আয় বেশি এসেছে- সেসব ব্যাংক ২০২৩ সালে ভালো করেছে।
তবে বছর শেষে আর্থিক খাতের বেশ কিছু সূচক আবার নড়েচড়েও বসেছে। ব্যাংকের বাইরের মুদ্রা আবার ফিরেছে ভল্টে। বেড়েছে আমানতের পরিমাণ। আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলো বাড়াচ্ছে সুদহার হার, যা এখন সাড়ে ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঋণের সুদ হার বেড়ে হয়ে ১২ শতাংশ। তবে নতুন বছরে পুরো ব্যাংকখাত নিয়মের মধ্যে না ফিরলে ঝুঁকি দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমানতকারীদের ব্যাংকমুখী করে, আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে, আরও উদ্যোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলছেন, আমরা এখন মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোড় দিচ্ছি। এইসময়টাতে স্বাভাবিকভাবেই আমানতকারীরা ভালো রেট পাবে।
পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ যাতে সহনীয় পর্যায় রাখতে প্রয়োজনে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ধরে রাখার ইঙ্গিতও দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।