আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে অগ্রগতি, টাকা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে বেড়েছে আমানত ও ঋণ। কিন্ত এই অগ্রগতির সুফল পাচ্ছেন না অনেক গ্রাহক। বরং আমানত ফেরত না পাওয়ায় তাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও আস্থার সংকট। তবে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

তথ্য বলছে, গত এক বছরে এনবিএফআই খাতে আমানত বেড়েছে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিপরীতে চার বছরে আমানত হিসাব কমেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭২টি বা ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অবসরের সঞ্চয় থেকে ১৬ লাখ টাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে জমা রেখেছিলেন সাবেক বাপেক্স কর্মকর্তা এ কে এম আনসার উদ্দিন। মেয়াদ শেষে মূল টাকা তো ফেরত পানইনি, সুদের অর্থও পাননি তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও সেই অর্থ তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের নভেম্বরে মারা যান তিনি। তার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সংকটের মধ্যেই মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করতে হয়েছে।

একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আভিভা ফাইন্যান্সের আমানতকারী ৬৪ বছর বয়সী খলিল আহমেদ খান। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধের খরচ মেটাতে তিনি ২৩ লাখ টাকার এফডিআর করেছিলেন। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও পুরো অর্থ ফেরত পাননি। দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে মাত্র ৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ফেরত দেয়। বাকি অর্থ কবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ থেকেও নিশ্চিত সময়সূচি পাননি তিনি।

শুধু আনসার উদ্দিন বা খলিল আহমেদ নন, দেশের অনেক এনবিএফআই গ্রাহকই এখন আমানত ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এতে খাতটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমছে। ফলে কিছু আর্থিক সূচকে উন্নতি হলেও সাধারণ গ্রাহকের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখনও হতাশাজনক।

ব্যাংক খাত সংস্কার ও একক ভ্যাটহারে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চায় আইএমএফ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক। এরই মধ্যে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রশাসক। আর সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আড়াই হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে সরকারের।

গ্রাহকের আস্থার সংকট ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তারল্য সমস্যার মধ্যেও গত এক বছরে এনবিএফআই খাতে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চে খাতটির মোট আমানত ছিল ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।

তবে আমানত বাড়লেও আমানতকারীর হিসাব কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত হিসাব ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩১ হাজারে। আর ২০২৬ সালের মার্চে আমানত হিসাব আরও কমে হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৮টি। অর্থাৎ চার বছরে আমানত হিসাব কমেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭২টি বা ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক গ্রাহক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে নেওয়া কিংবা নতুন করে আমানত না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণেই আমানত হিসাবের সংখ্যা দ্রুত কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ঋণ ও বিনিয়োগের গ্রাহক সংখ্যাও কমেছে, তবে তা আমানতকারীর হিসাবের তুলনায় কম।

সামিট গ্রুপের রেকর্ড ২ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি

এনবিএফআই খাতে ঋণ ও অগ্রিমের প্রবৃদ্ধিও ধীর। ২০২৫ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিম ছিল ৭৬ হাজার ৯৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা বা মাত্র ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া ও গ্রাহকের আস্থার সংকট- সব মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে।

এনবিএফআই খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মও বড় ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এসব অনিয়মের কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ করেন। এতে পুরো এনবিএফআই খাতের প্রতি মানুষের আস্থায় বড় ধাক্কা লাগে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের দায় পুরো খাতের ওপর পড়েছে। ফলে ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।

চূড়ান্তের পথে নবম পে স্কেল, যে কোনো সময় বাস্তবায়ন

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে খেলাপি ঋণ আদায়, সুশাসন নিশ্চিত করা, মূলধন শক্তিশালী করা ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। সাময়িক তারল্য সহায়তার পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান টেকসই নয়, সেগুলোকে একীভূত বা সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্গঠনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তারল্য সহায়তা দিয়ে এনবিএফআই খাতের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন, মূলধন ঘাটতি পূরণ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা তৈরি করা না গেলে এই খাতে নতুন করে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাও কঠিন হবে।

একাত্তর/এফআর
প্রতিটি ব্যাংকের জন্য আলাদা সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাটহার বাস্তবায়ন করা হবে কি না তারও জবাব চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে, অর্থ সচিব ও গভর্নর...
ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন ভাতা পরিশোধের স্বার্থে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় আগামী ২৫ ও ২৬ মে সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা থাকবে।
সারাদেশে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নির্বিঘ্ন মোবাইল আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে হাত মিলিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা...
দেশের একীভূত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অর্থের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন যুক্ত আরও চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী। 
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হয়েছেন স্বজনরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার মেয়াদ ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এর আগেই মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়া এবং দায়িত্বে রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর