দেশে ব্যবসায় বড় বাধা দুর্নীতি: সিপিডি

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। একই সাথে দেশে থেকে টাকা পাচার ও কর ফাঁকি দুটোই বেড়েছে। যা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন দেশের ব্যবসায়ী সমাজ।

বাংলাদেশের ব্যবসা করার পরিবেশ সূচক তুলে ধরে এসব কথা জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশ ২০২৩ এর উদ্যোক্তা জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে সিপিডি। এ উপলক্ষে ধানমন্ডির সিপিডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

কেমন ছিলো ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা করার পরিবেশ-সেই বিষয়ে দেশের ছোট-মাঝারি ও বড় মোট ৭১ জন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি সিপিডি।

সিপিডি বলছে, সব ধরনের ব্যবসায়ীরাই বলেছেন, সড়ক-রেল যোগাযোগের উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোখাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বেশ ভাল। কিন্তু ঘুষ ও দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে, যা তাদের ব্যবসা করার প্রধান বাধা বলে জানান জরিপে অংশ নেয়া বেশিরভাগ ব্যবসায়ী।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি একটি পরিষেবা সংযোগ নিতে আবেদন করলে তার কাছে যে পরিমাণ ঘুষ চাওয়া হয়েছিল, তা তার পরিকল্পিত বিনিয়োগের সমপরিমাণ। বড় ব্যবসায়ীরা কোনো না কোনোভাবে ঘুষ-দুর্নীতি সামলে নিতে পারলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে এটি বড় সমস্যা।

সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে পুরোনো চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এবার নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট। এসব কারণে ব্যবসার পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু এ সংখ্যা খুবই কম। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে বৈষম্য বাড়বে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যাবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়বে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক শীর্ষ পর্যায়ে সদিচ্ছার প্রতিফলন আছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন দরকার।

মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিম্নমুখী প্রবণতা, সরকারি দায়-দেনা বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়নি, বিপরীতে কমেছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। এমনকী নীতি ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আছে বলেও জানান তারা।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের উন্নতি করতে সিপিডি ১০টি সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-ব্যবসায় বাণিজ্যের পরিবেশের উন্নতিতে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের ১০০ দিন, এক বছর, তিন বছর ও পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; ন্যায়পাল কার্যালয় স্থাপন; সীমিত সময়ের জন্য খাতভিত্তিক কিছু কমিশন গঠন, যেমন ব্যাংক, শেয়ারবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার; একটি সমন্বিত আর্থিক লেনদেন খাত প্রতিষ্ঠা; সরকারি কেনাকাটা ব্যবস্থা আধুনিক করা ইত্যাদি।