এপ্রিলে রপ্তানি কমলেও বেড়েছে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ। এ মাসে ৩৯১ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ কম।
অন্যদিকে ২০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা এর আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ২১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রপ্তানি বার্ষিক হিসেবে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৪৭ কোটি ডলারে।
চলতি অর্থবছরে ১০ মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে চার হাজার দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ডলারে। এ সময় নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে দুই হাজার ২৮৭ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা কমলেও এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ১১ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়ার পাদুকা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমেছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম।
রপ্তানিমুখী শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঈদের সময়ে কারখানাগুলোয় কার্যাদেশ কম এসেছে। এছাড়া লম্বা ছুটির কারণেও রপ্তানি চালানের সংখ্যা কমেছে। এ কারণে পণ্যদ্রব্য রপ্তানি নিম্নমুখী হয়েছে, যা স্বাভাবিক।
এখন পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতাসক্ষম রাখতে সহায়তা করছে। তবে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না।
ডব্লিউটিও’র ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তিন বছর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে। এ সুবিধা আমদানি ও রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এলডিসি হিসেবে আমরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাই, সেসব ভবিষ্যতে থাকবে না। তখন রপ্তানি বাড়াতে হলে নতুন কৌশল বা উদ্যোগ লাগবে। তাছাড়া রপ্তানিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে পণ্য ও সেবা বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।