কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবে নাখোশ ব্যবসায়ীরা

আবার বিদেশি তাজা ফল, কাজু বাদামের মতো শুষ্ক ফল এবং ফলের জুস আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাবে নাখোশ পাইকার ও আমদানিকারকরা। তারা বলছেন, এমনিতেই বিক্রি কম, তার ওপর কর বাড়ানোয় এসব পণ্যের ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর বাড়িয়ে বিদেশি পণ্যকে নিরুৎসাহিত করা খারাপ কিছু নয়।

দেশে কাজু বাদামের বার্ষিক চাহিদা ২৫ হাজার টন। এ বাজারের আকার এখন ৭০০ কোটি টাকার মতো। চাহিদা বাড়ায় এখন দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ছোট বড় প্রায় ৫ হাজার বাগানে কাজু বাদামের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। তাই স্থানীয় উৎপাদন বেড়ে এখন ৩ হাজার টনের মতো। তবু বছরে ২২ হাজার টন কাজু বাদাম আমদানি হয় মূলত ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে।

এবার দেশে উৎপাদন সম্প্রসারণে উৎসাহ দিতে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, দেশে উৎপাদিত কাজু বাজারের বিকাশে কাজু বাজার আমদানিতে ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ অর্থমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান। তিনি চান, দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়ুক, বিদেশি ফলের রাজত্ব কমুক।

তিনি বলেন, কাজু বাজার আমাদের মুখ্য খাবার না। যারা খান, তাদের যে ক্রয় ক্ষমতা তাতে তেমন সমস্যা হবে না। আর এতে দেশি ফলের কিছুটা প্রসার হলে তাই ভালো।

এদিকে আমদানিকরকরা বলছেন ফল, শুষ্ক ফল ও ফলের জুস আমদানিতে আগেই কর বেশি এখন আরও বাড়লে তা আর মধ্যবিত্ত ক্রেতার হাতের নাগালেও রাখা যাবে না।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আ. করিম বলেন, এখনি মানুষ কম কেনেন। দাম বেশি। এরপরে যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।

এবার অবশ্য রোজার আগেই বিদেশি ফল বিক্রিতে ভাটা পড়ে। তাই বাদামতলীর ব্যবসায় এখন খরা। ফলে, বাধ্য হয়েই ফল বাদ দিয়ে, অন্য ব্যবসা খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা।