ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে ভারত

এখন থেকে ভারতের ভূমি ব্যবহার তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না বাংলাদেশ। চার বছর আগের চালু হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ভারত বাতিল করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সড়কপথে নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির সুযোগ থাকছে না। 

দিল্লি জানিয়েছে, নিজস্ব রপ্তানিতে জট তৈরি হওয়ায় এই সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। তবে, বিশ্লেষক বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে ভারত। 

২০২৪ সালের তথ্য বলছে, ভুটানে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১০৭ কোটি টাকার পণ্য। আর নেপালে ৪৭৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, ওষুধ, নির্মাণ সামগ্রী ও কৃষিপণ্য। 

এই রপ্তানির সিংহভাগ ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ভারতের ভূমি ব্যবহার করে সম্পন্ন করে থাকে বাংলাদেশ। এই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত বাংলাদেশকে দিয়েছিল। 

সম্প্রতি ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারতের সরকার একটি সার্কুলার জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে এখন থেকে ভারতের ভূমি ব্যবহার করে বাংলাদেশি কোন পণ্য নেপাল ও ভুটানে যাবে না। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সাপ্তাহিক ব্রিফিং করেছে। সেই ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বন্দরে জট তৈরি হওয়ায় এই সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে সেটার ফলাফল আমরা পেয়েছি। সুনির্দিষ্ট জট তৈরি হয়েছে আমাদের বিমানবন্দর ও বন্দরে। অবকাঠামো ও ভারতের রপ্তানিতে উচ্চ ব্যয়, রপ্তানি কাজে ভারতে জট তৈরি হয়েছে। 

জয়সওয়াল আরও বলেন, এ কারণে ৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি  এই ব্যবস্থার কারণে ভুটান ও নেপালে  ভারতের ভূমি ব্যবহার করে  বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে  কোন প্রভাব ফেলবে না।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফাকচারিং হাব হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। 

থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। মোদী-ইউনূস বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক ভালো বলেই জানানো হয়েছে। তাহলে এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী হতে পারে?

নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত দেশের রপ্তানি খাতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এটি নিশ্চয়ই ভালো সম্পর্কের উদাহরণ হতে পার না। 

ভারত ভিসা সুবিধা বন্ধ রেখেছে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই। এবার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করা হলো। ভারত আশ্রয়ে রেখেছে পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক কি আরেক দফা বৈরিতা সৃষ্টি হলো কি?

এমন প্রশ্নের উত্তর নাঈম আশরাফ বলেন, ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বাতিল করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ চাইলে এর বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে পারে।  

বাংলাদেশের বন্দর ও সড়ক ব্যবহার করে ভারত সেভেন সিস্টার্সে পণ্য পাঠায়। সেই সুবিধা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন নাঈম আশফাক চৌধুরী।