অবশেষে দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে যা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আনন্দদায়ক হবে।
সূত্রমতে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রাখা হবে নাকি কমিয়ে ১৬টিতে আনা হবে- তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হারে বড় চমক থাকতে পারে। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ন্যূনতম বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪,৫০০-১৫,০০০ টাকা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশাখী ভাতায় বিশাল সুখবর
এবারের সুপারিশে উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে বৈশাখী ভাতায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা হিসেবে দেয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে দুই ঈদের বোনাস বর্তমান নিয়মেই (মূল বেতনের ১০০ শতাংশ) বহাল থাকবে।
চিকিৎসা ভাতায় বয়সভিত্তিক নতুন কাঠামো
বয়স বাড়ার সাথে সাথে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ভাতাকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৪০ বছর বা কম বয়সীদের জন্য মাসিক ৪,০০০ টাকা। ৪০ বছরের বেশি ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য: মাসিক ৫,০০০ টাকা। বর্তমানে এই ভাতার পরিমাণ ৩,৫০০ টাকা। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরাও আজীবন মাসিক ৫,০০০ টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে সরকার ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন অথবা ভাতার যে কোনো একটি অংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এই বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সুপারিশ প্রণয়নে জনমত ও বাস্তবতা
গত ২৭ জুলাই গঠিত এই কমিশন দেশের সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মতবিনিময় এবং অনলাইন জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। ৭০ জনেরও বেশি সচিবের মত নিয়ে ‘আকাশচুম্বী’ প্রস্তাবনা না করে একটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য বেতন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।