বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মেঘনা গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যের পরিবেশ নিশ্চিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর জোড় দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মেঘনা গ্রুপসহ পাঁচটি ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে শিল্পগ্রুপের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ, কৃষি শিল্পখাতে সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম এসে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। এরপর ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। আমরা নির্বাচন পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, কীভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা যায় তা জানতে চেয়েছেন।
এমজিআই চেয়ারম্যান জানান, এখানে মূলত আলোচনা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে।রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
মোস্তফা কামাল আরও জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা কীভাবে কৃষি, শিল্প খাতে সম্ভাবনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ করে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নীতিগত সংস্কার, বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও জোর দেওয়া হয় বৈঠকে।
প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, বন্দরকে আরেও গতিশীল করে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।