যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষি, বাণিজ্য চুক্তিতে কম সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, মাত্র ১ শতাংশ ছাড় দিয়ে, কয়েকগুণ বেশি সুযোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, দেশটির নিজস্ব তুলায় তৈরি করা পোশাকে পাল্টা শুল্ক না থাকলেও, সেই সুবিধা নিতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েক বছর। সাথে রয়েছে এলএনজি, কৃষিপণ্য, বিমানসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বাড়তি চাপের শর্ত।

গোটা বিশ্বকে বাগে আনতে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নামে এক ভয়াবহ বাণিজ্য ফাঁদ পাতে যুক্তরাষ্ট্র। যা থেকে রেহাই পায়নি উন্নত, উন্নয়নশীল কিংবা গরিব দেশও। বাংলাদেশের ওপর এই সিদ্ধান্তও ছিল কঠিন। যা সমাধানের আশায়, করতে হয় বাণিজ্যচুক্তি। কিন্তু, দিনশেষে সেটিও স্বস্তি দিতে পারেনি খুব বেশি। বরং, দীর্ঘমেয়াদে বিশাল আমদানি ব্যয়ের বোঝা চাপতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কাঁধে।

মূলত তৈরি পোশাকের একক বৃহৎ বাজারটি ঠিক রাখতেই চুক্তির দিতে পা বাড়াতে হয় বাংলাদেশ সরকারকে। কিন্তু বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের এলএনজি, কৃষিপণ্য ও তুলা আমদানি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে, পাল্টা শুল্ক কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। যা এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় চাপ। তাই, স্বভাবতই খুশি নন ব্যবসায়ীরা।

নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম একাত্তরকে বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছে। অন্যান্য দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সে প্রভাব দেখতে পারছি। সবাই মোটামুটি একটা ভালো রেজাল্ট আনতে পেরেছ। 

এদিকে আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ মনে হচ্ছে, সে দেশের তুলা দিয়ে তৈরি করা পোশাকের রপ্তানি। যাতে দিতে হবে না কোনো পাল্টা শুল্ক। তবে, সেই তুলার দামও পড়বে অন্যান্য উৎস থেকে কিছুটা বেশি। আছে, কেন্দ্রীয় মজুদাগার নির্মাণ, কাস্টমসের প্রস্তুতিসহ নানা জটিলতাও। ফলে, এই সুবিধা পেতেও লাগবে লম্বা সময়।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক (অতিরিক্ত) তৌফিকুল ইসলাম খান একাত্তরকে বলেন, তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে যে পোশাক তৈরি করব তার ভ্যালু চেইন কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। তার সাফল্যের উপর নির্ভর করবে আমার কতটুকু এক্সপোর্ট বৃদ্ধি পাবে।  

র‌্যাপিড চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো যদি জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলে আমাদের থেকেও পণ্য কিনতে হবে তাহলে সেটা ম্যানেজ করার কি আমাদের ক্ষমতা আছে, থাকলে সেটা কি?

মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর প্রয়োগ, অশুল্ক বাধা দূর করাসহ মার্কিনি শর্তের তালিকা রয়েছে দীর্ঘ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে আড়াই হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সে দেশটির জন্য তা পৌনে ৭ হাজার।