ব্যাংক খাতের মতো দেশের বীমা খাতেও বিগত সরকারের আমলে চলেছে বিরামহীন লুটপাট ও হরিলুট! যার মাশুল দিতে গিয়ে মেয়াদ শেষেও বীমার টাকা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন দেশের লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহক। এবার এই খাতে চরম শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হওয়ার বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহকদের রক্ত পানি করা টাকা ফেরত দেওয়া হবে!
উদ্বোধনের দীর্ঘ ১৬ বছর পর, সোমবার প্রথমবার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) ভবনে পা রাখেন কোনো অর্থমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী খাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে কোম্পানিগুলো ইচ্ছা মতো লুটপাট চালিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ গ্রাহকের বীমা দাবিই অনাদায়ি রয়ে গেছে! সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা ফেরাতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বিস্ফোরক অভিযোগ এনে জানান, অনেক কোম্পানি গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের অর্থ গচ্ছিত না রেখে ইচ্ছেমতো অন্য খাতে বিনিয়োগ বা পাচার করেছে। এমনকি নিজেদের এই হরিলুট ও জালিয়াতি আড়াল করতে কোনো কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দুটি করে আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করার মতো প্রতারণাও চালিয়ে আসছে! দেশের ৮২টি বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির অন্তত ১০টিরই আর্থিক অবস্থা এখন চরম সংকটাপন্ন। তিনি জানান, দুর্নীতি কমাতে প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং অনলাইন লেনদেনের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের কপাল পোড়ানো এই অরাজকতা বন্ধে এবার ব্যাপক সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, দাবি পরিশোধ করেতে বীমা কোম্পানিগুলোকে সময় বেধে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে, কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে জনগণের টাকা দেয়া হবে। এতে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে বলেও আশা করেন অর্থমন্ত্রী।
আইডিআরএ ইতিমধ্যেই কিছু কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে পাওনা মিটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বীমা আইন সংশোধনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের আদলে 'বীমা রেজল্যুশন' তৈরি করা হবে। এছাড়া তদারকি বাড়াতে আইডিআরএ’র জন্য দক্ষ নিজস্ব জনবল নিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়। দুর্বল কোম্পানি পুনর্গঠন আর জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযানে অবশেষে বীমা খাতে সুশাসন ফিরবে বলেই আশা করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।