ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-তে জমা থাকা নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন চারজন আমানতকারী। ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও চেক জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় দিনের পর দিন শাখায় ঘুরেও সমাধান পাননি তারা।
এ ঘটনায় নিজেদের বৈধ আমানতের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিতে ব্যাংকের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা রিট পিটিশনটির নম্বর ১৩৬৬৮/২০২৬।
রিট আবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চার আমানতকারী নিজ নিজ শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য চেক জমা দেন। তবে শাখা কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট কারণ না দেখিয়ে চেকগুলো প্রক্রিয়াজাত করা এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা শাখার গ্রাহক মো. শামীম আহমেদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক (নং ৪৮৭১৬৮৪) জমা দিয়েও টাকা তুলতে পারেননি। একই দিনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এসএমই শাখার গ্রাহক নাসিমা বেগম ৩০ হাজার টাকার চেক (নং NSB-K ৭২৩৬৪৩২) জমা দিয়েও অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি।
এ ছাড়া মির্জাপুর এসএমই কৃষি শাখার আমানতকারী লাকি আক্তার এবং মির্জাপুর শাখার মোছাঃ সাথী বেগমও একইভাবে নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন।
রিট আবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাস্টমার ইন্টারেস্ট প্রোটেকশন সেন্টার এবং ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পরও তারা কোনো কার্যকর বা তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকেও কার্যকর সাড়া না পেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটাতে নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন এই চার আমানতকারী।
মামলায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. শামীম আহমেদকে আমমোক্তার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রিট আবেদনটি পরিচালনা করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মারুফ উল আবেদ।