রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে স্লোভাকিয়া। রুশ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে (সিজেইইউ) মামলা করেছে দেশটি। সেইসাথে ভবিষ্যতে রাশিয়ার তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটিও আদালতে চ্যালেঞ্জ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
ইইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে। একই বছরের শরৎকাল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রুশ গ্যাস আমদানিও নিষিদ্ধ করার কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থের প্রবাহ সীমিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তবে স্লোভাকিয়ার আপত্তি যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত ছিল। অথচ ইইউ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে। প্রধানমন্ত্রী ফিকোর দাবি, এটি মূলত নিষেধাজ্ঞার মতো একটি সিদ্ধান্ত, তাই সর্বসম্মতি ছাড়া তা গ্রহণ করা ঠিক হয়নি।
স্লোভাকিয়া এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে তুর্কস্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ও ইউক্রেন হয়ে আসা পাইপলাইনে তেল আমদানি করে। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, রুশ জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আইনি লড়াই করছে হাঙ্গেরি। এবার স্লোভাকিয়ার মামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি নীতি ও সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।