১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদহার কলমানি মার্কেটে

আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সুদহার বেড়েছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে ধারের ক্ষেত্রে এখন প্রতি একশো টাকায় ৮ টাকার বেশি সুদ গুণতে হচ্ছে, যা গেল ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বুধবার দেশের ব্যাংকগুলো কলমানি মার্কেট থেকে ৩ হাজার ১৮৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছে যেখানে গড় সুদহার ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর আগে ২০১২ সালে কলমানির গড় সুদহার সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৮২ শতাংশে ঠেকেছিল।

ব্যাংকগুলো দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে একে অন্যের কাছ থেকে একদিনের জন্য টাকা ধার নেয়। সাধারণত একে কলমানি বলা হয়। ব্যাংক যখন টাকার সংকটে পড়ে, তখন তারল্য সংকট যখন বাড়ে, তখন এর সুদহারও বেড়ে যায়। আবার তারল্য সংকট কমে এলে এর সুদহার কমে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের কারণে চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংকগুলো কাঙ্ক্ষিত আমানত পাচ্ছে না, অন্যদিকে ডলারের বাড়তি দামের কারণে নগদ তারল্য গুণতে হচ্ছে বেশি, এসব কারণে কলমানি মার্কেটে সুদ হার বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে গড় কলমানি রেট ছিল ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ, জুলাইয়ে তা কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশে ঠেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল নীতি সুদহার বা পলিসি রেট বাড়ানোর একদিন পর অক্টোবরে এই কলমানি রেট বেড়ে ৭.২৩ শতাংশ হয়ে যায়। আর ডিসেম্বরের শুরুতে কলমানি রেট বেড়ে দাড়ায় ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশে ।

ব্যাংকাররা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর পলিসি রেট বা রেপো রেট- যে সুদহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ধার দেয়- কয়েক দফায় বাড়িয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর ফান্ড কস্ট বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে কলমানি বাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ পলিসি রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৭৫ শতাংশ করেছে। এ নিয়ে দুই মাসেরও কম সময়ে পলিসি রেট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে।

এদিকে, কলমানি বাজারে সুদহার বেড়ে যাওয়ায় লভ্যাংশ কমে যাওয়ার শঙ্কায় ব্যাংকগুলো। কেননা, কলমানি সুদ হার বাড়লে এ খাতে সার্বিক খরচ বেড়ে যায়। অন্যদিকে ভোক্তা ঋণের সুদহার নির্ধারিত থাকায় ব্যাংকগুলো তার চেয়ে বেশি সুদহার নিতে পারে না।