ব্যাংকের ১৪ শতাংশ সুদহার নিয়ে প্রশ্ন, তবে কি গোপনে নিয়ন্ত্রণ?

‘অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো বিড়ম্বনা আর নাই’-হৈমন্তী গল্পে রবীন্দ্রনাথ এমনটা মনে করলেও বিড়ম্বনা নিয়ে কিছু যায় আসেনা বাংলাদেশ ব্যাংকের। তাই হয়তো ব্যাংক ঋণের সুদ হার বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিয়েও সেটি ১৪ শতাংশের মধ্যে আটকে ‍রাখার কথা বলছেন গভর্নর!

বাজারের চাহিদার ওপরই নির্ধারিত হবে ব্যাংক ঋণের সুদের হার। এমন ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলছেন সুদহার ১৪ শতাংশের বেশি হবে না। 

এখন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিয়ে কীভাবে ১৪ শতাংশে আটকে রাখবেন সুদের হার? তবে কী গোপনে ব্যাংকগুলোর সুদহার নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক? 

বিকেএমইএ’র নির্বাহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গর্ভনর বলেছেন সুদহার ১৪ উপরে যাবে না, কিন্তু আমি জানিনা কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। 

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, এটা খুবই স্ট্রাইকিং লেগেছে। মার্কেট বেস করেছে কিন্তু ১৪ পারসেন্টের ওপর যাবে না। তার মানে মার্কেট বেস করা হয়নি। 

নয়-ছয় কিংবা স্মার্ট সুদ হারের পর দেরিতে হলেও বাজারের ওপর ছাড়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বাজারভিত্তিক সুদ হার হলেও বাড়তি এই সুদ এখনই আদায় করা যাবে না; গভর্নরের এমন ঘোষণাকে অবাস্তব বলছেন বিশ্লেষকরা। এতে ব্যাংক খাতে নতুন বিড়ম্বনার তৈরী হবার শঙ্কা তাদের।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গর্ভনর বলেছেন বর্ধিত যে সুদহারটা প্রয়োগ হবে, সেই বর্ধিত হারটি এখন কিস্তিতে নেওয়া যাবে না। এটা জমা থাকবে। সব কিস্তি শেষ হওয়ার পর সেই বর্ধিত অ্যামাউন্ট নিতে হবে।

ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা কি লোনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সুদহার বদলাবো, এমনটা বলা হচ্ছে। তবে সেটা তো ঠিক না। কারণ এখন ব্যাংকগুলোকে ফান্ড যোগাড় করতে হবে এই লোনগুলোকে সাপের্টে রাখার জন্য। আপনি ফান্ড মবিলাইজ করবেন হায়ার রেটে আর লেনডিং করবেন লোয়ার রেটে! অথচ ৯ শতাংশে লেনডিং করা হয়েছে। 

ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন অবাস্তব ঘোষণায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাবে বলেও শঙ্কা তাদের।