সতর্কতামূলক পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার ডাউন

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক মারাত্মক সাইবার ঝুঁকির থাবায় এবার কাঁপছে দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক! পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ত্রুটিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সাইবার হামলার হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি করে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশ্বজুড়ে পিএইচপি ভাষার মারাত্মক দুটি সিকিউরিটি হোল বা নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে দূর থেকে হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডেটাবেজ ও স্পর্শকাতর তথ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা মেনে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণেই ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে অফলাইন রাখা হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে আমরা আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই পিএইচপি ত্রুটির কারণে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, পিএইচপি প্রযুক্তিনির্ভর দেশের আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে নিজেদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে এই ডিজিটাল ছিদ্র গলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে ইতোমধ্যে কোনো হ্যাকার থাবা বসাতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লোবাল সার্ভারে পিএইচপির সংস্করণ দ্রুত আপডেট করা কিংবা সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে সার্ভার বিচ্ছিন্ন রাখা ছাড়া এই মুহূর্তে বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি দল ইতোমধ্যে সেই ত্রুটি মেরামতে দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত নোটিশ, অনলাইন সেবা ও জরুরি তথ্য পেতে সাময়িকভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। তবে এই ডিজিটাল অচলাবস্থা কাটিয়ে ঠিক কখন নাগাদ ওয়েবসাইটটি আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।