বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী চার বছরের জন্য তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

রাশেদ মাকসুদ সর্বশেষ বেসরকারি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ও বিদেশে ব্যাংক খাতে সুদীর্ঘ ৩০ বছর বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের।

রাশেদ মাকসুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে মাস্টার্স করেন। এরপর ১৯৯২ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকে একজন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি ব্যাংক এন. এ. বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কান্ট্রি অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি সিটি ব্যাংক এন. এ. এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রুপের প্রধান ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশে এই ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন বিভাগের পরিচালক ও প্রধানও হন। তারপরে পদায়ন পান সিটি ব্যাংকের জাকার্তা অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে।

২০১১ সালে রাশেদ মাকসুদকে সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটি কান্ট্রি অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে মিডাস ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে একজন উপদেষ্টাও ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট বিএসইসি'র চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

গত ১৩ আগস্ট পলিসি এক্সচেঞ্জ’র চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজকে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তার এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ এবং বিএসইসির কর্মকর্তাদের একাংশ আপত্তি তোলে। সেই আপত্তির মুখে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়ে কিছুটা সময় নেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ তোলে।

সালমান এফ রহমানের সঙ্গে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগ তোলা হয়। বিএসইসির কর্মকর্তারা পরে আপত্তি প্রত্যাহার করে নেন। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার এম মাসরুর রিয়াজ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের অপারগতা প্রকাশ করেন।