পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আবারো অস্থির দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। দাম একদিন কমলে পরদিন আবার বেড়ে যায়ে। ২০ টাকা কমার দু’দিন পর আবার বেড়েছে ২০ টাকা।
এদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসার খবরে অন্য কোনো দেশে এলসি করছেন না ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মোকাম পেঁয়াজে পরিপূর্ণ। এমনকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি পেঁয়াজের ট্রাক-ভ্যান।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, একদিনে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে ৪২৫ টন। এরপরও দাম কমাচ্ছে না পাইকাররা।
কেজিতে ২০ টাকা কমে দুদিন পর আবার বেড়েছে ২০ টাকা।
এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, মালের দাম বেশি। ১১০ টাকা থেকে ১২০টাকা পর্যন্ত চাচ্ছে কোনো কোনো ঘরে (পাইকার)। এখানে এসে কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকা। খরচ দিয়ে পাঁচ টাকা বেশি বিক্রি করলে লাভ হয় না। পাইকাররা দাম বেশি রাথে। মানুষ এটা বিশ্বাস করে না।
পাইকারদের সেই পুরনো ছুঁতো যে সরবরাহ ঘাটতির কারণেই পেঁয়াজের দাম কমছে না।
এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দু-তিনদিনেতো পেঁয়াজ আসতে পারবে না। এক সপ্তাহ পর যখন আসবে বাজারে দাম কমে যাবে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, টিসিবির মাধ্যমে যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন বেচার কথা সেটাতো টিসিবি বিক্র করবে। পাবলিকতো বিক্রি করতে পারবে না। এই ৫০ হাজার টন দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো যাবে না।
এদিকে ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের আশায় অন্য কোনো দেশ থেকে তারা এলসি করছেন না। তাই কবে নাগাদ পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে? তা তারা জানেন না।
এক পাইকার বলেন, দেশি পেঁয়াজ কতটুকু কাভার করতে পারবে? মনে হয় না রমজান মাসে পেঁয়াজের দাম কমবে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে এখন পেঁয়াজের দাম ২২ রুপি। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৮ টাকা। এরসাথে পরিবহন-ট্যাক্স-ভ্যাট মিলিয়ে পেঁয়াজের দাম হওয়ার কথা ৫৬ থেকে ৬০ টাকা।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি করার ঘোষণা দেয়ার পর দেশের বাজারে কমতে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিলো ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, গত মঙ্গলবার তা বিক্রি হয় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
গত সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশসহ আরও পাঁচ দেশে সরকারিভাবে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। আর এ ঘোষণার পর রাজধানীর কাওরানবাজারসহ পাইকারি আড়ৎগুলোতে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম।
যদিও এখনও ১০০টাকার ওপরে পেঁয়াজের এ দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। তারা জানান, গত মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পেঁয়াজের কেজি ছিলো ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। সংকটের দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের পেঁয়াজ আমদানি হলে এ দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার ভেতরে চলে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা ক্রেতাদের।