জিয়ার সময় গুম-খুনের বিচার দাবি ভুক্তভোগী স্বজনদের

সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গুমের সংস্কৃতি শুরু হয় দাবি করে, ১৯৭৭ সালে প্রহসনের বিচারের নামে হত্যার শিকার হওয়া সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবার বিচার দাবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে বুধবার জাতীয় জাদুঘরের সমানে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৭ সালে একটি জাপানি বিমান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে কথিত সেনা অভ্যুত্থানের অভিযোগ আনা হয়। তখনকার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তৈরি একদিনের সামরিক আদালতে বিচার করে বিমান ও সেনাবাহিনীর ১,৪০০ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। রাতে কারফিউ দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয় ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে।  

ফাঁসি হওয়া ১৯৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া মিললেও আসলে মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪৩ জন। কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন সেনা ও বিমান বাহিনীর আড়াই হাজার সদস্য। ফাঁসি হওয়া অনেকের স্বজনরা কখনো তাদের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক খবর এমনকি কবরের সন্ধানটাও পায়নি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থা বর্তমান সময়ের অল্পসংখ্যক কিছু গুমের অভিযোগে বিচার চাইলেও ১৯৭৭ সালে এতগুলো মানুষের গুম এবং বিচার ছাড়া হত্যার ঘটনা নিয়ে মুখ খোলে না।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন বিচার চাওয়ার মত এবং সাক্ষী দেয়ার মত অনেকেই মারা যাচ্ছেন । তাই দ্রুত এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার করা হোক।