ডিএমপি'র যুগ্ম কমিশনার বিপ্লবের ওপর শিবিরের হামলার পরিকল্পনা

ডিএমপি'র যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারের সরকারের ওপর ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করছে ইসলামি ছাত্র শিবির। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর সব তথ্য হাতে আসে পুলিশের।

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি মেসে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে ঐ মেস থেকে পুলিশ উগ্রবাদী বই, শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন রেজিস্টার, চাঁদা আদায়ের রশিদ, ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহ একাধিক ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, উত্তরার সেই বাড়িটির পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মেসটি পরিচালিত হতো। মেসের সকলেই শিবিরের সদস্য বলে জানা যায়। ফ্ল্যাটের তিন রুমের ভেতর একটি রুমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

পুলিশ রুমের সদস্যদের মোবাইল ফোনগুলো পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, শিবিরের গোপন কার্যক্রম মূলত টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। টেলিগ্রামের তাদের বেশ কিছু গ্রুপ আছে এইসব কার্যক্রম পরিচালনা করবার জন্য, যেমন: আবাবিল, ক্লাস রুম, বদরুললীগ ইত্যাদি। এই গ্রুপগুলোতে তাদের বিভিন্ন জুম মিটিং-এ অংশগ্রহণের তথ্য, নেতাদের বক্তব্য, কার্যকরী কমিটির সদস্যদের তালিকা ইত্যাদি পাওয়া যায়।

শিবির সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত এইসব টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায় ডিএমপি'র যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারের সরকারের প্রতি এই শিবির সদস্যদের প্রচন্ড আক্রোশ রয়েছে। তাদের গ্রুপের আলোচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় একাধিক পোস্টে বলা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের মহাসমাবেশে কোন প্রকার বাধা আসলে বিপ্লব কুমারের ওপর হামলা করে তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে। টেলিগ্রামের অন্য আরেক পোস্টে সমাবেশ ঘিরে পুলিশের প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে দেয়া বিপ্লব কুমার সরকারের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থান করে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর নজির পাওয়া যায়।

এরকমভাবে অন্য আরেকটি পোস্টে বিপ্লব কুমারের সরকারের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষী, সাম্প্রদায়িক এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সহ পুরো বিষয়টি আরও উচ্চতর তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।