মিধিলির প্রভাবে ঢাকার বায়ুদূষণে উন্নতি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মিধিলি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের ওপর অনেকটা সময়জুড়ে অবস্থান করে ভারতের ত্রিপুরা থেকে অরুণাচলে গিয়ে শক্তি ক্ষয় করে মিলিয়ে গেছে। মিধিলির প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টি ঝরালেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানীতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকতে। মিধিলি উপকূলে আঘাত হানার পর রাজধানীজুড়ে মাঝারি হয়েছে। এতে করে ধোঁয়াশায় ভরপুর নগরীর বায়ুর মান বেশ খানিকটাই উন্নত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রভাবে ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাতাসের মান 'মধ্যম' পর্যায়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৬২ নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ৩০তম স্থানে রয়েছে ঢাকা।

একিউআই স্কোর ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে 'মধ্যম' বা 'গ্রহণযোগ্য' পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও কুয়েতের কুয়েত সিটি যথাক্রমে ৩২৮, ৩১৭ ও ১৮৬ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম তিনটি স্থান দখল করেছে।

উল্লেখ্য, বায়ুদূষণের কারণে রাজধানী ঢাকা অনেক দিন থেকেই দূষিত শহরের উপরের দিকে থাকছে। ঢাকার বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। এমন দূষণের কারণে নগরবাসীর মধ্যে দূষণ থেকে সৃষ্টি নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।