নদী খননের সময় পাওয়া কঙ্কালের সূত্র ধরে অবশেষে সন্ধান মিলেছে ছয় মাস নিখোঁজ থাকা কেরানীগঞ্জের রুমান শিকদারের। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় আঁখি আক্তার ও আলাল মোল্লা নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তদন্ত বিভাগ- পিবিআই জানায়, পরকীয়ার জেরে প্রেমিকা ও তার স্বামী কৌশলে রুমানকে হত্যার পর মরদেহ নদীর পাশে চাপা দেয়।
অন্যদিকে, ছয় মাস পর ছেলের সন্ধান পেয়ে কান্না থামাতে পারছিলেন না মা। নিখোঁজ হবার পর ছয় মাস ধরে সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তবে ফিরেছে সন্তানের কঙ্কাল। কেরানীগঞ্জের নদীতে মিলেছে তার ছেলে রুমানের কঙ্কাল।
গত ২১ মে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সিংহ নদীর খনন কাজের সময় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল পাওয়া যায়। ওই সময় পুলিশ গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। কঙ্কালে জড়ানো কাপড় দেখে স্বজনরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। তারা জানান, কঙ্কালটি রুমান শিকদারের। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানায় মামলা করে পুলিশ।
বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে, ঢাকা জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষায় আত্মীয়দের সন্দেহই সত্য বলে প্রমাণ হয়। পরকীয়ার জেরে একই এলাকার প্রেমিকা আঁখি ও তার স্বামী আলাল পরিকল্পিতভাবে রুমানকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আখির স্বামী ওমর ফারুক বিদেশে থাকেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাধে আসা-যাওয়ার একপর্যায়ে রুমান শিকদারের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আঁখি। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাস থেকে চলে আসেন ফারুক। পরকীয়ার জেরে আখির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
পরে দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। আবারও সংসারে ফেরেন তারা। কিছুদিন যেতে আবারও রুমানের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান আঁখি। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় তারা পালিয়ে যান। সপ্তাহখানেক এক সঙ্গে থাকার পর তাদের খোঁজ পান ফারুক। এনিয়ে সালিশি বৈঠক হয় দুই পরিবারের মধ্যে। এরপর আঁখিকে বিয়ে করতে রুমানকে চাপ দেয়া হলে তিনি অস্বীকার করেন।
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বিষয়টি মীমাংসা হলে আবারও ফারুকের কাছে ক্ষমা চান আঁখি। পরে তিনি রুমানকে অনুরোধ করেন এক সঙ্গে থাকার বিষয়টি কাউকে না জানাতে। কিন্তু রুমান এলাকার লোকজনের কাছে এক সঙ্গে থাকার বিষয়টি বলে দেন।
এতে রুমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আঁখি ও ফারুক। ২২ মার্চ রুমানকে ফোন করে বাসায় ডাকেন আঁখি। কথাবার্তার এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে রুমানের মাথায় আঘাত করেন ফারুক ও আঁখি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে প্রতিবেশী আলালের সহযোগিতায় লাশটি বস্তায় ভরে সিংহ নদীতে ফেলে দেন তারা।
ঘটনার পর থেকে ফারুক পলাতক থাকলেও আঁখি ও আলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। লোমহর্ষক এই খুনের রহস্য উন্মোচনের পর এলাকায় বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত আলাল ও আখির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তারা।