নগরীর ছাপাখানায় বেড়েছে ভোটের ব্যস্ততা

ভোটের প্রচার সামগ্রী ছাপতে ব্যস্ত রাজধানীর বেশিরভাগ ছাপাখানা। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়ে যাওয়ায় পোস্টার, লিফলেট, খোলা চিঠি ও স্টিকার ছাপাচ্ছেন দ্বাদশ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কালি, কাগজ ও আনুষ্ঠানিক অন্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছাপানোর খরচও অনেক বেড়েছে। বেড়েছে মাইক ও সাউন্ডবক্সের ব্যবহারও।

ভোটের মৌসুম, স্বাভাবিকভাবে ছাপাখানার ব্যাস্ততারই মৌসুমও। ফেসবুক, টুইটারের এই ডিজিটাল যুগেও সাদাকালো পোস্টারের আবেদন কমেনি এতটুকুও।

নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার শুরু। তাই বেড়েছে রাজধানীর ছাপাখানাগুলো ব্যস্ততা। ব্যানার-পোস্টার আর লিফলেট ছাপাতে ঢাকার বাইরে থেকেও আসছেন ক্রেতারা। 

যদিও পুরনো ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবার পোস্টারের চাহিদা কিছুটা কম। কাগজ আর কালির দামও বেড়েছে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। 

ছাপাখানা মালিকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেটের কাজ তেমন একটা আসেনি। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু হয় নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর ব্যস্ততা। 

রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় ছাপাখানায়। দুই একজন প্রার্থীর কাজ কেউ কেউ পেয়েছেন। তবে বেশিরভাগ প্রেসেই এ ধরনের কাজের কোনো অর্ডারই পায়নি। ফলে গতানুগতিক কাজগুলো করছেন তারা।

ল্যামিনিটিংসহ একটা পোস্টার বানাতে এবার খরচ পড়ছে ছয় থেকে সাত টাকা। কাঁচামাল ও কালির দাম বেশ বাড়িতে থাকায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে, এটা আবার অনেক প্রার্থী মানতেও চান না।

এক প্রেসের ডিজাইনার একাত্তরকে বলেন, এবার কাজের চাপ অনেক কম। এর আগে আমরা খাওয়ার সময় পেতাম না। কারণ এবারের নির্বাচন প্রার্থী কম হাওয়াতে কাজের চাপও অনেক কম।

শুধু প্রেস মালিকরাই নন ভোটের মৌসুমে কদর বেড়েছে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমেরও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোটের প্রচারে মাইক ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কারণে আগের মতো চাহিদা নেই তাদের।

গত দুই সপ্তাহ আগে থেকে সাউন্ড সিস্টেমের মাইকগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। ছোটখাট ঠিক করা হয়েছে। সব মিলে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি অনেক ভালো ছিল। কিন্তু সেভাবে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

ছাপাখানা আর মাইক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি, এবার প্রার্থীদের প্রচারে চাহিদা বেড়েছে নানা রকম ডিজিটাল কন্টেন্টের। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রচার পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।