বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত বিচ্ছিন্ন ঘটনা: নৌ প্রতিমন্ত্রী

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে একজন বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যশোরে গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহতের ব্যাপারে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, এগুলো আলোচনা হয়নি, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা করেছিল অনেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। যারা শঙ্কার মধ্যে ছিল তারাও সরকারের সঙ্গে আছে। শঙ্কা কেটে গেছে। 

প্রতিমন্ত্রী জানান, নৌ পর্যটনের জন্য ভারতের কাছে অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা চাওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কাজ করবে। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সুখবর পাওয়া যেতে পারে। 

তিনি আরও জানান, সরকার যে পদক্ষেপ নেবে তাতে ভারত সব সময় সহযোগিতা করবে। আমরা ভারতকে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে বলেছি।

সোমবার বিকেলে যশোরে বেনাপোলের ধান্যখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে রইশুদ্দীন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

গত রাতে রাতে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জামিলের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের ধান্যখোলা বিওপির জেলেপাড়া পোস্ট এলাকায় ভারত থেকে একদল গরু চোরাকারবারি সীমান্ত পার হয়ে আসছিল।

এসময় বিজিবি টহল দল চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহল দলের সদস্য সিপাহী মোহাম্মদ রইশুদ্দীন চোরাকারবারীদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াশার কারণে দলবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, তিনি বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করা হয় এবং জানা যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই সৈনিক মারা গেছেন। 

এ বিষয়ে বিএসএফকে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও মরদেহ বাংলাদেশে দ্রুত ফেরত আনার বিষয়ে সব পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।