প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শাহজাহানপুরের আলোচিত মাংস ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইন্টারনেট ব্যবসায়ী নুরুল হক (৬৭)। তিনি দাবি করছেন, অন্য একজনের পরামর্শে তিনি এ কাজ করেছেন।
রাজধানীর শাজাহানপুরের মাংস ব্যবসায়ী খলিলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এরইমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার গভীর রাতে সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে নুরুল হক ও মোহাম্মদ ইমনকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের বরাতে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট লাইনের ব্যবসা করে আসছিলেন। তার এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে কিছুদিন আগে সেলিমের সঙ্গে মারামারি হয় নুরুল হকের। এতে তার ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
এ অবস্থায় ঢাকার মাংস ব্যবসায়ী খলিলকে প্রতিপক্ষ সেলিম পরিচয়ে হুমকি দিলে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায় তার কোনও প্রতিবন্ধকতা হবে না, উল্টো সেলিম বিপদে পড়বে, এমন পরামর্শ পেয়ে হুমকি দেয় নুরুল হক। সে স্থানীয় কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ীর কাছ থেকে খলিলের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে।
১৮ জানুয়ারি নুরুল ফোন করে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কম দামে মাংস বিক্রি না করলে খলিল ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেন।
হুমকি দেওয়ার সময় নিজের ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ সেলিমের নাম উল্লেখ করেন নুরুল। পরে তিনি একইদিন ইমনকে কল দিয়ে খলিলকে গালমন্দ করতে বলেন। এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন খলিল। র্যাবের তদন্তে বেরিয়ে আসে, নুরুল ও ইমন এই হুমকি দিয়েছেন।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর শাজাহানপুরের মাংস ব্যবসায়ী খলিল তার ‘খলিল গোস্ত বিতান’ -এ ৫৯৫ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি শুরু করেন, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে খলিলের দেখাদেখি আরও কিছু মাংস ব্যবসায়ী প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু করে।
এরপর গত ২২ ডিসেম্বর ভোক্তা অধিদপ্তর, মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্মিলিত বৈঠক করে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সিদ্ধান্তে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।