রাজধানীর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করার সময় পাঁচ বছরের শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় রিটের আদেশের দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।
আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় রিটের শুনানি শেষে আগামী মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার বিচারপতি মোস্তাফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আতাবুল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ তারিখ ঠিক করেন।
উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বে মেডিকেল সেক্টরে মাফিয়া কাজ করে। তারা ওষুধসহ মেডিকেল উপকরণ সরবরাহে রি-এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
আর দেশের সব মানুষের যাতে কল্যাণ হয় সে বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রায় ঘোষণা করা হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়, তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ। আর রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দেয় হাইকোর্ট। সেদিন আদালত ওই প্রতিবেদন দেখে তা ‘আইওয়াশ ছাড়া আর কিছু নয়’ বলেও মন্তব্য করেন।
পাঁচ বছর নয় মাস বয়সী আয়ানকে খতনা করাতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার সাঁতারকুল এলাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে নিয়ে যায় তার পরিবার।
অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার পর আর জ্ঞান ফেরেনি তার। পরে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আট জানুয়ারি সেখানেই মৃত্যু হয় শিশুটির।
এরপর আয়ানের বাবা শামীম আহামেদ বাড্ডা থানায় মামলা করেন। এতে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সাইদ সাব্বির আহমেদ, সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক তাসনুভা মাহজাবিন ও অজ্ঞাতনামা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। গত ১৪ জানুয়ারি এই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দেন।
আয়ানের ঘটনা তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে গত ১৪ জানুয়ারি নির্দেশ দেয়া হাইকোর্ট।
তিনদিন দেরি করে আদালতে জমা দেয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ান চাইল্ডহুড অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছিল। শ্বাসকষ্টের জন্য আয়ানকে মাঝে মাঝে নেবুলাইজার ও ইনহেলার দেওয়া লাগত। সুন্নতে খৎনার অপারেশনের আগে ওয়েটিং রুমে তাকে নেবুলাইজার ও ইনহেলার দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি চিকিৎসকদের জানানো হয়নি।
শিশু আয়ানের অপারেশনের সময় স্বাভাবিক রক্তপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।