পোস্তগোলা ব্রিজের সংস্কার শুরু, বিকল্প পথের নির্দেশনা

উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পোস্তগোলা ব্রিজের দুটি গাডারের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত। এ সময় ঢাকাসহ দেশের ২১ জেলায় যাতায়াতে বাড়তি যানজটের আশঙ্কা করছে পুলিশ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর জানিয়েছে, মেরামত চলাকালীন ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আট মার্চ, এই ১৬ দিন সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলতে পারবে না। তবে বাস ও হালকা যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকবে পাঁচ দিন। এই সময়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে 

পোস্তগোলা ব্রিজের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রফিক জানান, ১৬ দিনব্যাপী এই সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে দুই পাশে চলাচলকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য রাত ১২টার পর থেকে সড়কে ডাইভারশন করা হয়েছে। সংস্কার কাজ উপলক্ষে বাংলাদেশ রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারসহ বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার কাজ চলাকালীন আগামী ২৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ১, ৪ ও ৮ মার্চ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে যান চলাচল। এছাড়া বাকি দিনগুলোতে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের নির্দেশনা মেনে ব্রিজ দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিন, পোস্তগোলা ব্রিজ সংস্কার চলায় বাবুবাজার ব্রীজে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বাবুবাজার সড়কে যানজট দেখা যায়। রাস্তার পাশে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ চলায় সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে হচ্ছে যানবাহন। প্রায় এক মাস ধরেই এই সড়কে চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। ড্রেন নির্মাণের পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। রাস্তা সরু থাকায় এক লেনে চলাচল করছে যানবাহন। ড্রেনের নির্মাণ সামগ্রীও যত্রতত্রভাবে ফেলে রাখা হয়েছে।

একদিকে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি, অন্যদিকে ড্রেন সংস্কারের কাজ; সব মিলিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। যানজট মুক্ত রাখতে বাবু বাজার ব্রিজে ভ্যান, অটোরিকশা, থ্রি হুইলারের মতো যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে সওজ জানায়, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কের তৃতীয় কিলোমিটারে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বুড়িগঙ্গা সেতু-১ এর (পোস্তগোলা সেতু) দুটি গার্ডারের মেরামত ও রেট্রোফিটিং কাজ করা হবে। এজন্য ভারী যানবাহনসমূহ (ট্রাক-পিকআপ ভ্যান, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনারবাহী লরি) ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এবং হালকা যানবাহনকে (বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশা ইত্যাদি) ২৪ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং ১, ৪ ও ৮ মার্চ- এই পাঁচদিন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হলো।

ভারী যানবাহন ও বড় বাসের জন্য নির্দেশনা বিকল্প সড়ক

  • যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কগামী যানবাহন ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ড ও বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে তেঘড়িয়া ইন্টারসেকশন হয়ে মহাসড়কে প্রবেশ করবে।
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক থেকে যাত্রাবাড়ীগামী যানবাহন তেঘড়িয়া ইন্টারসেকশন-বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে ধোলাইপাড় হয়ে যাত্রাবাড়ী প্রবেশ করবে।
  • গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করবে।
  • দেশের পূর্বাঞ্চল/দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণাঞ্চল/দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনগুলো চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করবে।
  • দেশের উত্তরাঞ্চল হতে ছেড়ে আসা দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াত করবে।

হালকা যানবাহনের (মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা) জন্য বিকল্প সড়ক

  • পদ্মা সেতু থেকে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহন শ্রীনগর-মুন্সিগঞ্জ-মুক্তারপুর সেতু- তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু-মদনপুর সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।
  • সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে পদ্মা সেতুমুখী যানবাহন মদনপুর থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু-মুক্তারপুর সেতু মুন্সিগঞ্জ-শ্রীনগর সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।
  • পদ্মা সেতু থেকে ঢাকাগামী যানবাহন শ্রীনগর দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ (আর-৮২০) সড়ক, তুরাগ-রোহিতপুর (জেড-৫০৬৯), আব্দুল্লাহপুর-রাজাবাড়ী বাজার-কোনাখোলা মোড়-বছিলা সেতু-মোহাম্মদপুর সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।