রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নুরজাহান, সলিমুল্লাহ ও তাজমহল রোডসহ বিভিন্ন সড়কে চলছে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ নানা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি। কোথাও একমাস, কোথাও দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলছে কাজ। কিন্তু দ্রুত কাজ শেষ করায় নজর নেই কোনো প্রতিষ্ঠানের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করায় শেষ হচ্ছে না ভোগান্তি।
মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোড। সুয়ারেজ লাইনের পাইপ বসাতে গিয়ে ফেটেছে ওয়াসার পানির লাইন। পাঁচদিন ধরে সেই লাইন দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। ময়লা কাঁদা আর সেই পানিতে একাকার পথঘাট। যেখানে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় মোহাম্মদপুরের অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি মেলেনা, সেখানে এমন অপচয়ে বিরক্ত এলাকাবাসী।
তারা জানালেন, কয়েকদিন আগেই আরও মোটা পাইপ ফেটে আরও বেশি পানি পড়ছিল রাস্তায়। ওটা ঠিক করতেই না করতেই এখন আরেকটা পাইপ ফেটে সড়কে গড়াচ্ছে পানি। এটা ঠিক করারও কোনো তোড়জোড় নেই বলে অভিযোগ তাদের।
একই রোডে টাউনহল বাসস্ট্যান্ডের আধা কিলোমিটারের এই সড়কটি প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ। উন্নয়নের এই কাজ নিয়ে মানুষের কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্নটা ছোট্ট একটি সড়কের এই কাজে কেনো এতো লম্বা সময় লাগবে ?
এলাকাবাসী জানালেন, এ রাস্তায় অনেকগুলো স্কুল-কলেজ। সব সড়কে একসাথে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু না করে ধাপে ধাপে এক একটি সড়ক ধরে কাজ করলে ভালো হতো।
সলিমুল্লাহ রোডের বাসিন্দারা জানালেন, কিছুদিন আগেই পাঁচ-ছয় মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে গ্যাসের কাজ করা হলো। এখন আবার চলছে পানির লাইন মেরামতের কাজ। কাজে এমন দীর্ঘসূত্রিতা ও সমন্বয়হীনতা তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
সলিমুল্লাহ রোড, তাজমহল রোডসহ বেশ কিছু সড়কে চলছে সুয়ারেজ ও পানির লাইন সংস্কারের কাজ। তাও চলছে গেলো কয়েকমাস ধরে। রাস্তার মাঝ বরাবর সিটি কর্পোরেশনের সুয়ারেজ লাইন আর দুই পাশের ফুটপাথে আড়াআড়ি ভাবে চলছে ওয়াসার পানির লাইন বসানোর কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ এখানেও দ্রুত কাজ শেষ করার কোন লক্ষণ নেই। কারণ কাজের তুলনায় শ্রমিক হাতেগোনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজে কোনো ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না। আজ একটু কাজ হচ্ছে, এরপর দুই-তিনদিন খোঁজ নেই। এক মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তাগুলো এমন পড়ে আছে। দ্রুত কাজ করলে এতদিনে কাজটা শেষ হয়ে যেতো, আর তাদের ভোগান্তিও কমতো।
সিটি কর্পোরেশন বা ওয়াসা, কর্তৃপক্ষ যেই হোক; কোন সংস্থাই দ্রুত কাজ শেষ করে মানুষের ভোগান্তি কমানোর কোন ব্যবস্থা রাখেনা, অভিযোগ এলাকাবাসীর।