বেইলি রোডের মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করা এক শিশুর মরদেহ পড়েছিলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের মর্গে। অবশেষে শনাক্ত করা গেছে তিন বছরের শিশু জামিরাকে। তার সাথেই লাশ হয়ে একই মর্গে ছিলেন বাবা মা। লেলিহান আগুন কেড়ে নিয়েছে তাদের পুরো পরিবার। তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হলো পরিবারের কাছে।
বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় নিহত ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনের মরদেহ এখন পর্যন্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুজনের মরদেহ থেকে নেয়া হয়েছে ডিএনএ নমুনা। যাদের একজনের কোন দাবিদার নেই। আবার আরেকটি মরদেহের দাবি করছে দুই পরিবার।
এদিকে সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় তার দেহ এখনও হস্তান্তর করেনি কর্তৃপক্ষ। মর্গে থাকা বাকি দুজনের মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ নমুনা। আর বার্ন ইন্সটিটিউটে এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন পাঁচজন ।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আগুনের ঘটনায় শুক্রবারই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ওই ভবনে ‘চুমুক রেস্তোরাঁ’র দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান এবং ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জয়নুদ্দিন জিসান। শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ী আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের এক ব্যবস্থাপক মুন্সী হামিমুল হক বিপুলকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নিহততের স্বজন একাত্তরকে বলেন, থানা থেকে কল করেছিলো। যখন বাচ্চার ছবি দিলো তখন দেখে চিনলাম যে এটা শাহজালাল ভাইয়ের বাচ্চা। নিহত আরেকজনের স্বজন বলেন, ফেসবুকে অনেকে ছবি দিয়েছে। সেই ছবি দেখে জানতে পেরেছি যে তিনি আমাদের রিলেটিভ।
নিহত ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনের মরদেহ বুঝে পেয়েছে পরিবার।
রমনা থানার এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, এদটি দেহ পুড়ে অর্ধকয়লা হয়ে গেছে। চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। এটার কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। আরেকটা মরদেহেরে চেহারা চেনা যায় না। হাতে ঘড়ি ছিলো। ওই ঘড়ি দেখে দুইপক্ষ দাবি করছে ওই দেহ তাদের পরিবারের সদস্যের।
সাংবাদিক অভিশ্রুতির বিষয়েও সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তার পরিচয়ও নিশ্চিত করতে ডিএনএর মাধ্যমে।
অভিশ্রুতির মামাতো ভাই নাঈম বলেন, জন্মনিবন্ধন বলেন, এনআইডি, এসএসসি-ইন্টার মিডিয়েটের সনদসহ যা কিছু কাগজপত্র আছে সব সাবমিট করা হয়েছে। এরপরেও কোনো উত্তর পাচ্ছি না। কোথা থেকে একটা জাল জন্মনিবন্ধন পাওয়া গেছে। এখন কোর্টের থেকে আদেশ আনতে হবে। এরপরে ডিএনএন’র নমুনা নেবে।
আহতদের মধ্যে বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি থাকা ১১ জনের মধ্যে ছয় জন বাসায় ফিরছেন শনিবার। বাকি পাঁচজনের অবস্থা এখনো শঙ্কাজনক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, যাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তারা মোটামুটি ভালো আছেন। আর বাকি যে পাঁচজন থাকবেন, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। যারা আছেন, তাদেরকে আমরা আরও পর্যালোচনা করে কয়েক দিন পর সিদ্ধান্ত নেবো কী করা যায়।
তাদের চিকিৎসার জন্য ১৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।