ঈদ সামনে রেখে অভিনব পদ্ধতিতে ওজনে কম দিয়ে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। এমন অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা কাপ্তানবাজারে আসা মুরগির পাইকারি ক্রেতাদের প্রতি ১০০ কেজিতে ২০ কেজি কম দিতো। ডিজিটাল ওজন যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছোট্ট একটি রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস দিয়ে চলতো এই প্রতারণা।
ডিজিটাল ওজন যন্ত্রের সাথে রিমোর্ট কন্ট্রোল যুক্ত করে পাল্টে ফেলা যায় ওজন যন্ত্রের মাপ। কোনো পাইকারি দোকান থেকে কেউ হয়তো ১০০ কেজি পণ্য কিনলেন। ওজন যন্ত্রে কারসাজি করে তাকে দেয়া হতো আশি কেজি। যা ক্রেতার বোঝা অসম্ভব।
পেশায় ইলেকট্রিক মেকানিক সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজিব অনলাইন থেকে কিছু সার্কিট কিনে ডিজিটাল ওজন মেশিন যুক্ত করে রিমোর্ট কন্ট্রোলের এই কারসাজি। কাপ্তান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পণ্য নিতে আসা ব্যবসায়ীদের এভাবেই সর্বস্বান্ত করতো চক্রটি।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ীর অভিযোগে কাপ্তান বাজারে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজিব, মো. মনির, মো. লিটন ও মো. আলাউদ্দিন খানকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ডিজিটাল ওজন মেশিন, সাতটি রিমোট কন্ট্রোলসহ কারসাজির নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগনর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, যেকোনো পণ্য যখন মাপা হতো দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে ওজন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। সব পাইকারি ক্রেতাদের তারা এভবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতারিত করছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, প্রতারণরা কাজে ব্যবহত এই ডিভাইস কেনা হয়েছে দারাজ থেকে। দারাজ এটি জানতো কি না তারও তদন্ত হচ্ছে।
হারুন অর রশীদ বলেন, এই মেশিন দারাজ থেকে কেনা হয়েছে। তারা কেন এই মেশিন বানিয়েছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি। যারা এই মেশিন নিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। কোনে কোন বাজারে এই মেশিন গেছে সেটা আমরা দেখছি। যারা এর সঙ্গে জড়িত সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান বলেন, সজিব বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে তার তৈরি মেশিন বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো। সে প্রতিটি মেশিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। এই চক্রের কাছে ওজন কম দেওয়ার সাংকেতিক শব্দ হলো ‘গাপসি’। এর অর্থ ওজনে কম দিতে হবে। কাপ্তান বাজারের অসাধু পাইকারি মুরগি বা মাংস বিক্রেতারা এসব মেশিন বেশি ব্যবহার করতো।
ডিবি প্রধান বলেন, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দূরে বসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা একটি অভিনব ও নতুন ধরনের প্রতারণা! আমরা শুনতাম, পাইকারি পণ্য কিনতে এসে অনেকেই ওজনে গরমিল পেতেন। অনেক সময় খুচরা ক্রেতারাও এমন অভিযোগ করতেন। অভিযোগকে সামনে রেখে কাজ শুরু করে ডিবির মতিঝিল বিভাগ। পরে ওই প্রতারকদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই চক্রে আরো অনেকেই আছে। তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।