সোনালি ব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির এক মামলার অন্যতম আসামি সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার।
জামিনে থাকা জামাল সরকার মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির হলেও দণ্ডের আদেশ শুনে পালিয়ে গেছেন। তাকে পলাতক দেখিয়ে পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার প্রথম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম।
সোনালী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্ধ আত্মসাতের ১১টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম আলোচিত এ মামলার রায়ে আরো সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরো আটজনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা।
জামাল সরকার দুই ধারায় মোট সাত বছরের দণ্ড পেয়েছেন; এক ধারায় পাঁচ বছরের ও আরেক ধারায় ধারায় দুই বছরের। সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে তাকে।
সাভারের হেমায়েতপুরের লালন টাওয়ার, লালন ফিলিং স্টেশন, ডেইরি ফার্মসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল এতোদিন জামিনে ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিনে থাকা আসামি জামাল উদ্দিন সরকার মঙ্গলবার রায় শুনতে আদালতে হাজির হন। ওকালতনামায় সই করেন তিনি। কিন্তু আদালতে দণ্ডের আদেশ শোনার পরই এক ফাঁকে পালিয়ে যান তিনি।
পরে তাকে না পাওয়ায় আদালত তার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এক যুগ আগের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের মালিক, কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে একটি মামলার রায় হয় মঙ্গলবার।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস নামে ভুয়া কোম্পানির হিসাবে ৫২৫ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের সুতা রপ্তানি করা হয় বলে নথিপত্রে দেখানো হয়। ওই হিসাবে পুরো অর্থ জমা করা হলে তা থেকে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা হলমার্কের আরেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে তানভীর ও তার স্ত্রী তুলে নেন।
২০১২ সালের ৪ অক্টোবর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থের অপব্যবহার এবং পাচারের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে দুদক।
২০১৬ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ অভিযোগ গঠন করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এ বদলির আদেশ দেন। মামলার ৮১ জনের মধ্যে ৫৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত।