ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বাইক চায় না পুলিশ

যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে এবার ঈদযাত্রায় নগরীর ছোট ছোট বাস ঢাকার বাইরে যেতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।

মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। অর্ধেকের বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল। তাই এবারের ঈদে পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুলিশ সদস্যদের এ নিষেধজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঈদে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কগুলোতে ঈদে সবাইকে মোটরসাইকেলে যাতায়াত না করার অনুরোধ জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। বাস মালিকদের নিষেধ করা হয়েছে, যেন ফিটনেসবিহীন গাড়ি বের না করে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঈদের কেনাকাটায় কারণে ঢাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় যে পরিমাণ মার্কেট ও যানবাহন রয়েছে সেই তুলনায় পর্যাপ্ত বৈধ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা গাড়িগুলো রাস্তায় পার্কিং করা হচ্ছে। এতে করে আরো যানজট বাড়ছে। সড়কে পার্কিং করলে ট্রাফিক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মার্কেট কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা হয়ে যায়। এই সময়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে এবং ঈদকে ঘিরে কোনো হুমকি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের উৎসবকে ঘিরে কোনো হুমকি নেই। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এই বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাইরে যাবেন। এই সময়ে ঢাকা শহর ফাঁকা থাকে। তাই আমরা পরামর্শ দেবো নগরবাসীর মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে নিজেরা সজাগ থাকবেন এবং সচেতন থাকবেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছুটি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ঈদ ঘিরে ছিনতাই রোধে ডিএমপির সবগুলো টিম কাজ করছে উল্লেখ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ডিএমপির আট বিভাগে টাস্কফোর্সের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে ডিসি ও থানা পুলিশ একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টাস্কফোর্স গঠনের পর বর্তমানে ডিএমপিতে ছিনতাইয়ের হার নিম্নমুখী। অর্থাৎ কমতে শুরু করেছে।

ঈদের কেনাকাটার কারণে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরবাসী বাইরে থাকছেন। ফলে সড়কে গাড়ির চাপ থাকে। কিন্তু রাতে ট্রাফিক সদস্যরা না থাকার কারণে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমরা রমজানে শুরুতে নেইনি। এখন দেখছি যে মানুষ রাতে মার্কেট করছে। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ কেনাকাটা করায় দোকান ও মার্কেট খোলা থাকছে। আমরা এখন থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।