ঈদের আগে ঢাকা নগরীতে ভিক্ষাবৃত্তির অপরাধে কয়েকশো মানুষকে আটক করে রাখা হয়েছে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে। নিরুপায় এসব লোকজন জানেন না, কেন তাদের আটকে রাখা হচ্ছে। তাদের স্বজনরা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। জানেন না কবে মুক্ত পরিবেশে পাবেন তাদের স্বজনদের।
এই মহানগরীতে বেঁচে থাকার তাগিদেই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে হাত পাততে হয় আরেকজনের কাছে। অসহায় নিরুপায় এসব মানুষের সঠিক সংখ্যা নগর কর্তৃপক্ষের জানা না থাকলেও ঈদের আগে এদের অনেককেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে। কারণ নগর সুন্দর করা ।
কল্যাণপুর পোড়া বস্তির নুর ইসলামকে এক মাস আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে কোথায় রাখা হয়েছে বা কেন ধরা হয়েছে- জানতেন না তার স্বজনরা। তিনি ভিক্ষুক নন বলেও দাবি তাদের।
নূর ইসলামের নাতনী জানালেন, তার দাদাকে ভিক্ষা করতে দেখেননি আশেপাশের লোকজন। তবুও তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
এই বস্তির লোকজনদের মধ্যে নূর ইসলামের মতোই আরও বেশ কয়েকজনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না বলেও জানালেন তারা। শ্যামলী থেকে বোতল কুড়ানোর সময় তাদের এক স্বজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানালেন একজন।
হাত যেনো না পাততে হয়, তার জন্য বিকল্প কি কিছু রেখেছে সরকার- এমন প্রশ্নও করেছেন অনেকে। বস্তির বয়োবৃদ্ধা একজন জানালেন, তিনি নাতনীর কাছে থাকেন। ছেলেমেয়েরা তাকে দেখেন না। মাঝেমাঝে হাত পাতা ছাড়া আর কোনোই উপায় নেই তার। দৈনিক দেড়শো-দুইশো টাকার ওষুধের ব্যবস্থা করা তার দরিদ্র নাতনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়।
এতদিন আটকে রাখার কথা নয় জানিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার জানালেন, তার কাছে এমন অভিযোগ এলে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তাদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
অনেক চেষ্টায় শেষ পর্যস্ত তাদের সন্ধান মেলে মিরপুর সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে ততদিনে নুরুল ইসলামকে নেয়া দেয়া হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল আশ্রয় কেন্দ্রে।
মিরপুর সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট একজন জানালেন, সারা শহর থেকে ধরে এনে এখানে জড়ো করা হয় ছিন্নমূল মানুষদের। এরপর তাদের সারাদেশের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বস্তির লোকজন বললেন, তাদের কি রাস্তায় বের হবারও অধিকারও নেই। জীবিকার প্রয়োজনেই বের হন তারা। তারা কি করবেন সেই প্রশ্নেরও জানা নেই কারুর কাছে।