ভারতের আসাম রাজ্যের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখিকা ড. রীতা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার রয়েছে কিশোর বয়সের নানান স্মৃতি। এবার সেই স্মৃতিগুলোকেই উপন্যাসের ভাষায় তুলে ধরেছেন ‘নেভারল্যান্ড-জিরো আওয়ার’ -গ্রন্থে।
ভারতের আসাম রাজ্যের হাফলং এসএসবি ট্রেনিং সেন্টারের সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন প্রয়াত বিরজানন্দ চৌধুরী। আর রীতা চৌধুরী কিশোর বয়সে বাবার সাথে থেকেই দেখেছেন মুক্তি সেনাদের প্রশিক্ষণ। নেভারল্যান্ড জিরো আওয়ার মূলত একাত্তরের সেই ইতিহাস গড়া মানুষদের নিয়েই ড. রীতা চৌধুরীর উপন্যাস।
লেখিকা ড. রীতা চৌধুরী বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বিশেষ অংশকে ট্রেনিং দিয়েছিলেন, আসাম পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে। আমরা ওখানে ছিলাম। আমরা তাদের কাছ থেকে দেখেছি।
উপন্যাসের পাতায় পাতায় রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী। সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে যুদ্ধকালীন সময়ের সমাজ জীবনের বাস্তব চিত্র।
অসমীয়া ও বাংলাদেশের লেখকরা বলছেন, এই উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সাথে আসামের বন্ধুত্ব যেমন নিবিড় হবে তেমনি নতুন প্রজন্মও জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধে আসামের জনগণের অবদানের কথা।
ব্যতিক্রমের কর্ণধার ড. সৌমেন বলেন, এই গ্রন্থটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
বাংলাদেশ কবিতা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ বলেন, উত্তর ভারতীয় রাজ্য আসামের সাথে বাংলাদেশ ও বাঙালীদের সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করবে এই বই।
শনিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় নেভারল্যান্ড জিরো আওয়ার উপন্যাসের প্রকাশনা অনুষ্ঠান।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বই প্রকাশের আগে ড. রীতা চৌধুরী প্রথম বার যান মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহালয়ে এবং ৩২ নম্বর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। সেখানে তিনি জানান, বইয়ের পরবর্তী খণ্ডে আসবে মুক্তিযুদ্ধ পর্ব। তৃতীয় পর্ব মুজিবের হত্যা থেকে ২০১১ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।