তাপদাহে বিপর্যস্ত চিড়িয়াখানার পশুপাখিরাও

তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত চিড়িয়াখানার পশু-পাখিরাও। নেই বানরের লাফালাফি, সিংহের হুংকার, বাঘের ডাক কিংবা হাতিদের খেলা। চিড়িয়াখানা জুড়ে যেনো পশুরাও থমকে আছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পরিস্থিতিতে পশুদের জন্য বিশেষ জলীয় খাবার ও বার বার গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় আসা দর্শকরাও কিছুটা হতাশ। কারণ পশুপাখিদের দেখা মিলছে না।

monkey_zoo

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেই রেসাস বানরের বিরাট খাঁচাটি প্রায় শূন্য। বেশিরভাগই বানরই বেষ্টনীর টিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। কোনো কোনো মা বানর তার বাচ্চাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পানিতে। প্রিয় বাদামও তাদের টানছে না।

সারা দিন থেমে থেমে ডেকে যাচ্ছিল ময়ূর। হয়তো মেঘকে ডাকছিলো বৃষ্টির প্রত্যাশায়।

pea_cock

এমনিতেই গরম সইতে পারে না জলহস্তী। শরীর বেয়ে পড়ছে ঘাম। খাবার খেয়েই ডুব দিচ্ছে পানিতে।

ক্যাঙ্গারু, জেব্রা, হরিণ- সবাই শেডের নীচে। এমনকি বনের রাজা সিংহও নিশ্চুপ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও খাবারের প্রতি অনীহা ।

হাতিরা মেতেছে জলকেলিতে। হাতির মাহুত ইসমাইল জানালেন, দিনে ৩ থেকে ৫ বার গোসল করানো হচ্ছে।

empty_zoo

চিড়িয়াখানার প্রাণী পুষ্টি কর্মকর্তা এম এ জলিল জানান, জলাধারগুলোর পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে বারবার । কোন কোন প্রাণীর জন্য তাদের বেষ্টনীগুলোতে ভেজা চট বিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। তরমুজ, শসা, সবুজ শাকসহ জলীয় খাবার দেয়া হচ্ছে তাদের ।

পাখিকুল আর কুমিরের মত জলজ প্রাণীরাও তাপদাহের তীব্র গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে।