শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেনের আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য করা হয়। কিন্তু আসামীপক্ষ নথি না পাওয়ায় সময়ের আবেদন করলে আগামী ২ জুন পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিশেষ জজ আদালত-৪ এ হাজির হন তিনি। হাজির হন মামলার অন্য আসামিরাও।
পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, দুদক অনেক ভয়াবহ অভিযোগ করেছে আমার বিরুদ্ধে। গ্রামীন ব্যাংকের মালিক আমি নই, সুদ যদি কেউ গ্রহণ করে তাহলে গ্রামিন ব্যাংকের মালিকরা করে থাকে। ৯৭ পার্সেন্ট সদস্য গ্রামীন ব্যাংকের মালিক, আমি কর্মচারী। এক কোটি মানুষকে আমি একটি ব্যাংকের মালিক বানিয়েছি। আজকে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সুস্থ মস্তিস্কের কোন মানুষ এমন অভিযোগ আনতে পারে না।
ইউনূসের আইনজীবী জানান, কোট পূর্বশর্তে জামিন মঞ্জুর করেছেন, পরবর্তী শুনানি ২ জুন। এই মামলা ড. ইউনূসকে হয়রানী করার জন্য করা হয়েছে। সরকার নিজেই বলেছে প্রতিশোধ নেবে, সেটারই বহিপ্রকাশ এই হয়রানীমূলক মামলা।
এদিকে দুদকের আইনজীবীরা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ড. ইউনূসের আইনজীবী সবসময়ই বলেন রাষ্ট্র কলকব্জা নাড়ছে। এসব বক্তব্য দিয়ে তিনি মামলাকে প্রভাবিত ও বাধাগ্রস্ত করছেন।
গত ২ এপ্রিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। ওইদিন মামলাটি বিচারের জন্য বদলি করা হয় বিশেষ জজ আদালত-৪ এ।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দেয় দুদক। গত বছরের ৩০ মে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা করেন। তখন আসামি করা হয়েছিল ১৩ জনকে।