এবার ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে আছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ড। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মশা জরিপ সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। জরিপে গত বছরের তুলনায় দেড়গুণ বেশি এডিস মশা মিলেছে। লার্ভার ঘনত্ব ৪৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশে। এডিস মশার প্রাক বর্ষা জরিপের এই ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে; আগে যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি ছিলো সেগুলোতে এবার বাড়তি নজর দিচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশন।
গেলো এপ্রিলে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৯৯টি ওয়ার্ডে এডিসের ঘনত্ব নির্ণয়ে প্রাক বর্ষা জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তিন হাজার ১৫২টি বাড়িতে চালানো জরিপের ফলাফলে উঠে আসে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য।
গত বছরের তুলনায় ঢাকায় এবার এডিসের উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। লার্ভার ঘনত্ব ৪৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশ। লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপক ব্রুডো ইনডেক্সে ৪১টি ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। এবার ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে আছে দুই সিটির ১৮টি ওয়ার্ড।
সব সূচকেই ডেঙ্গুর আরেকটি ভয়াল মৌসুমের ইঙ্গিত। এমন বাস্তবতায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু মোকাবেলার কৌশল চূড়ান্ত করেছে।
উত্তরের মেয়র জানালেন, উৎসস্থলে লার্ভা ধ্বংসে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। বিদেশ থেকে জৈব কীটনাশক-বিটিআই আমদানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে দ্রুত।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নতুন করে টারবাইন আনছি। প্রথম অবস্থায় ৬০টি টারবাইন আমরা নিয়ে আসছি। যেটি প্রায় ২২০ স্কয়ার মিটার কাভার করবে। আমরা চাচ্ছি আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করার জন্য।
জরিপে যে ৪১টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে তার ২৯টি ঢাকা দক্ষিণের। তবে অনেক আগেই ডেঙ্গু মোকাবেলার কাজ শুরু করেছে দক্ষিণের স্বাস্থ্য বিভাগ।
দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানালেন, আগে যে ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি ছিলো সেগুলোর দিকে এবার বাড়তি নজর থাকছে। এডিসের উৎসস্থল চিহ্নিত করতে ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি করা হয়েছে। এবার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শুরু হবে অভিযান।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, মশার ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব না। যে কারণে আমরা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে আমাদের কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে দশটি করে কমিটি করে দিয়েছি। এছাড়া আমাদের লার্ভি সাইটিং, এডাল্টি সাইটিং কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া গত বছর যে এলাকাগুলো ডেঙ্গু প্রবণ ছিলো সে এলাকার দিকে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।
সবচেয়ে বেশি লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে। নির্মাণাধীন ভবনে এবারও লার্ভার উপস্থিতি শঙ্কাজনক। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন বলছে, নাগরিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবেলা প্রায় অসম্ভব। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়াতে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহবান তাদের।
দেশের ইতিহাসে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যুবরণ করেছেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।