ব্যবসা জাল টাকার, তবে চালাতেন পুরো প্রাতিষ্ঠানিক কায়দায়। ছিলো স্থায়ী কর্মী, যাদের মাসিক বেতন তিন লাখ টাকার ওপর। নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে থাকতেন প্রযুক্তি থেকে দূরে। বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে লেয়াকত হোসেন জাকির নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ব্যবসার পুঁজি বলতে একটি কম্পিউটার আর এই প্রিন্টার। আর যেটি দিয়েই করে যাচ্ছিলেন রমরমা ব্যবসা। মাসে কর্মীদেরই বেতন দিতেন তিন লাখ টাকার ওপরে। তবে ঈদ ঘিরে প্রস্তুতির একদম শেষ পর্যায়ে ডিবির জালে ধরা পড়ে যান জালনোট সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা লেকায়ত হোসেন জাকির।
ডিবির হেফাজতে থাকা অবস্থায় জাকির নিজেই জানলেন কোরবানির ঈদ ঘিরে তার প্রস্তুতির কথা। টাকা ছাড়াও এ ঈদে ভারতীয় রুপিও ছাপিয়েছিলেন তিনি।
জাল টাকা ব্যবসায়ী লেকায়ত হোসেন জাকির জানান, ইন্ডিয়ান রূপি, প্রতি বান্ডিল বিক্রি হয় সাত হাজার টাকায়।
তার ঘরের আলমারি থেকে বিছানা সব জায়গায় ছিলো ছাপানো জাল নোট ও নোট ছাপানোর প্রস্তুতির নিদর্শন। জাকিরের কাছ থেকে জাল নোট কেনাবেচা করে এমন দুই নারীকেও গ্রেপ্তার করে ডিবি।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এক বছর ধরে জাকিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিলেন তারা।
ডিবি যুগ্ম কমিশনার মশিউর রহমান জানান, একটা সময় ফটোকপি করে জাল নোট বানানো হতো। পরে ২০১২ সাল থেকে একেবারে নিরাপত্তা সুতা, ওয়ার্টারমার্ক, বিভিন্ন রকমের কালার শিফটিং করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জাল টাকা তৈরি করা হতো।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, জাল টাকা শনাক্তে কোরবানির হাটগুলোতে আলাদা নজরদারি থাকবে ডিবির।
তিনি জানান, মূলত গ্রামের দিকে গরুর হাটগুলোকে টার্গেট করে থাকে প্রতারকরা।
শুধু পাঁচশ’ এক হাজারের নোট নয় যেকোনো ধরনের অর্থ লেনদেনে জনসাধারণকে আরও সতর্ক হওয়ার অনুরোধও জানান ডিবি প্রধান।