ছাগলকাণ্ডে ভাইরাল ইফাত-মতিউর এখন কোথায়?

এ যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসছে বড় বড় অজগর সাপ। সাপ বলছি এ কারণে যে বর্তমানে রাসেল ভাইপারে ভয়ে সন্ত্রস্ত ঢাকাসহ পুরো দেশ। এর মাঝেও কোরবানির ঈদও চলে গেল। কিন্তু ঈদের আমেজ কাটছেনা একটি কারণে সেটি হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তার ১৫ লাখি ছাগলকাণ্ডে এখনও বুঁদ সারাদেশ। 

বলা হচ্ছে, রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার ছেলে ইফাতের কথা। প্রথমত, ছেলে বাবাকে ছাগল উপহার দিতে চেয়েছিল তাই শখ করেই ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি উন্নতজাতের সুন্দর ছাগল কিনেছিল ইফাত। কিন্তু যখনেই এই ছাগলকাণ্ড ভাইরাল তাৎক্ষণিক ভোল পাল্টে ফেললেন বাবা মতিউর। 

ছেলের শখের ছাগলে নিজেই কোরবানি হয়ে পারেন, এই আশঙ্কায় সন্তানকেই অস্বীকার করে বসলেন এই জেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা। এরপরই এই ছেলের বাবা কে?-প্রশ্নে জর্জরিত পুরো দেশ। কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকেনা। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে আসে মতিউর রহমানেরই ছেলে ইফাত। 

শুধু বাবা-ছেলের পরিচয়ই নয়, একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে এই সরকারি কর্মকর্তা এবং তার পরিবারের বিশাল সম্পদ আর সম্পত্তির কথাও। মতিউর রহমানের এখন চাকরি জীবনের প্রায় শেষ পর্যায় চলছে। অন্যকিছু নয়, একটি ছাগলই তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেল প্রভাবশালী এই সরকারি কর্মকর্তাকে। 

একদিকে সামজিক মাধ্যম থেকে গণমাধ্যমে বহুল চর্চায় এই ছাগলকাণ্ড, অন্যদিকে গুঞ্জন রটেছে, মতিউরের পরিবারেও এখন ঘোরতর অশান্তি। ছাগলকাণ্ড এবং ছেলের পরিচয়ে টান পড়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে প্রথমপক্ষের স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকীর সঙ্গে আলোচনা করে পারিবারিক ড্রামা সাজান মতিউর। 

এরপরই দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান মুশফিকুর রহমান ইফাতের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করেন মতিউর। কিন্তু সন্তান ইফাতই বা ছেড়ে দেবেন কেন? তিনিও বসে থাকেননি। শোনা গেছে রাগ-অভিমানে নাকি দুইবার নিজেকে শেষ করে দেয়ার চেষ্টাও চালায় ইফাত। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। 

এক পর্যায়ে পরিবারের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী শাম্মী আখতার শিভলী, ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ও ইরফান দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। গেল বুধবারই চট্টগ্রাম হয়ে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন তারা। 

শুধু তাই নয়, গা-ঢাকা দিয়েছেন মতিউর ও তাঁর প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিও। রাজধানীর ধানমন্ডির আট নম্বর রোডের ইম্পেরিয়াল সুলতানা ভবনেও এখন নেই ইফাতের পরিবার । বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাড়িতে গিয়েও মতিউর ও তাঁর প্রথম স্ত্রী লাকির সন্ধানও মেলেনি। 

বাসার নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, দু’দিন ধরে এ বাসায় কেউ নেই। এমনকি মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না মতিউরকে। তবে, গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মতিউর গা ঢাকা দিলেও দেশেই আছে। তাঁর গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। এদিকে, ছাগলকাণ্ডে হইচইয়ের মধ্যেই মতিউরকে রাজস্ব বোর্ড থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে মতিউরের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানে নামতে পারে দুদকও।