ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর দখলে থাকা উদ্ধার করা অংশে খাল খননের কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
শুক্রবার দুপুরে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা অংশে এই খনন কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ।
ডিএনসিসির খাল উদ্ধারে টানা তিনদিন ওই এলাকায় অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করে ৬০টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে ১০ বিঘা জমি উদ্ধার করে ডিএনসিসি।
তবে, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সাদিক অ্যাগ্রো বা অন্য কারো পক্ষে বিপক্ষে নয়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে খাল খননের কাজ চলছে। যতদিন খালে পানির প্রবাহ ঠিক না হবে, ততদিন খাল খননের কাজ চলবে।
সম্প্রতি কোটি টাকার ‘অভিজাত’ গরু এবং ‘১৫ লাখ টাকার’ খাসি নিয়ে আলোচনায় আসে সাদিক অ্যাগ্রো।
দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে আসছে আলোচিত-সমালোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পশু আমদানি এবং বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে গবাদি পশু নিয়ে ব্যবসা করার আইন ও নীতিমালা রয়েছে। তবে, তা তোয়াক্কা না করেই অনেক খামারি গরু ও ছাগল উৎপাদন, প্রজনন, বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার অন্যতম উদাহরণ সাদিক অ্যাগ্রো ।
সাদিক অ্যাগ্রোর অবস্থান মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বসিলার বেড়িবাঁধ এলাকায়। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে জমি দখল করে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ছাড়া অন্য কোন বিদেশি জাতের ছাগল নিয়ে ব্যবসা করতে সরকার কাউকে অনুমোদন দেয়নি। দেশে ব্রাহমা জাতের গরু বিক্রির জন্যও কেউ অনুমোদন নেয়নি বা কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
২০১৬ সালে কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালার অধীনে বেসরকারিভাবে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে খামারিদের মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার। অথচ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আমদানি করা ১৮টি ব্রাহমা জাতের গরু বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই ব্রাহমা জাতের গরুগুলো আমদানি নিষিদ্ধ হলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনা হচ্ছিলো। আটক করা ব্রাহমা গরুগুলোকে আনা হচ্ছিলো ফ্রিজিয়ান জাত বলে। ওই ঘটনায় সাদিক অ্যাগ্রো দায়ী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে গরুগুলো বাজেয়াপ্ত করে সরকার।
এ বছর কোরবানি ঈদের সময় সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ইফাত এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের ছেলে। পরে মতিউরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
আলোচনার মধ্যেই কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানকে এনবিআর থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরানো হয়েছে তাকে।
এছাড়া মতিউর ও তার পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।