রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে এক নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার মধ্যরাতে খিলক্ষেতের বনরূপা এলাকায় এ ঘটনার পর ওই নারী শনিবার খিলক্ষেত থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে আবুল কাশেম সুমনের বয়স ৩৭ বছর। অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাকি তিনজন হলেন- রবিন হোসেন দেওয়ান (২৮), মীর আজিজুল ইসলাম টুটুল (২৩) ও মেহেদি হাসান হৃদয় (২২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই দম্পতি সাভার এলাকায় বসবাস করেন। শুক্রবার রাতে কাওলা এলাকায় ভুক্তভোগী নারী বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে তারা বিমানবন্দর সড়কে বনরূপা যাত্রী ছাউনির সামনে অপেক্ষা করার সময় পূর্বপরিচিত আবুল কাশেম সুমন এসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান।
তবে সেখানে কথা বললে ছেলেরা মারপিট করতে পারে এই কথা বলে ওই নারী ও তার স্বামীকে বাগানবাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় সুমন ও তার সঙ্গীরা। সেখানেই স্বামীকে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বাগানবাড়িতে সুমনরা ওই নারীর স্বামীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর তারা ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের ছাড়া হবে না বলে হুমকি-ধমকি দেন তারা।
মামলার বিবরণে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে ওই নারীর স্বামীকে টাকা আনার জন্য ছেড়ে দেন সুমন ও তার সহযোগীরা। রাত ৩টার দিকে প্রথমে সুমন ও পরে আরও তিনজন তাকে ধর্ষণ করেন। সেখানে উপস্থিত অন্য তিনজন ঘটনাস্থল পাহারা দেন। পরে ভোর ৫টায় ভুক্তভোগী নারীকে সেখানে রেখেই চলে যান ধর্ষণকারীরা।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে চারজন দুর্বৃত্ত তাকে ধর্ষণ করেছেন। পরে পুলিশ শনিবার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি কাশেমসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাশেম জানান, ওই নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল; তাকে বিয়ে না করায় পরিকল্পিতভাবে দলবল নিয়ে ওই নারীকে তুলে এনে ধর্ষণ করা হয়েছে।