ব্রাহমা গরু কেলেঙ্কারিতে সাদিক এগ্রোর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। আসামি করা হতে পারে সাদিক এগ্রোর মালিকসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন। এরই মধ্যে ব্রাহমা গরু কেলেঙ্কারিতে সাদিক এগ্রো ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যোগসাজশের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা।
১৫ লাখ টাকার ছাগলের কারণে দুদকের জালে সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান। এবার ব্রাহমা গরু কেলেঙ্কারিতে দুদকের জালে আটকে গেছে ছাগল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সাদিক এগ্রো।
২০২১ সালে জাল কাগজপত্র দিয়ে আমেরিকা থেকে ১৮টি ব্রাহমা গরু এনেছিলো সাদিক এগ্রো। সেটি ধরা পরায় বিমানবন্দর কাস্টমস গরুগুলো জব্দ করে।
পরিবহনের সময় পথে একটি গরু মারা যায়। বাকি ১৭টি হস্তান্তর করা হয় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে। সেখানে মারা যায় আরও দুইটি গরু।
এবার কৌশল বদলে মাংস বিক্রির নামে ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের ব্যানারে ১৫টি গরু নিলামে কিনে নেয় সাদিক এগ্রো। কিন্তু মাংস বিক্রি না করে বংশমর্যাদার তকমা লাগিয়ে কোরবানিতে কোটি টাকায় এসব গরু বিক্রির উদ্যোগ নেয় সাদিক এগ্রো। বিক্রিও হয়ে যায় তিনটি গরু।
ছাগলকাণ্ডের পর ১২টি ব্রাহমা গরু উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে মোহাম্মদপুর সাদিক এগ্রোর খামার থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি গরু। যদিও কাগজপত্রে এই গরুগুলো জবাই করে মাংসও বিক্রি হয়ে গেছে তিনমাস আগে।
দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, কাগজপত্রে তিনমাস আগেই এ গরুগুলো জবাই হয়ে মাংস বিক্রি হয়ে যাবার কথা। অথচ আজকের অভিযানে সাদিক এগ্রোর খামারে এ গরুগুলো জীবন্ত পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া ছয়টি গরুর গায়ে খোদাই করা কোড নম্বর থেকে এগুলো জব্দ করা গরু বলে স্পষ্ট হয় বলেও জানালেন এ তদন্ত কর্মকর্তা ।
গরু নিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনায় এবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। বাকি ছয়টি গরু উদ্ধার আর আসামিদের আইনের আওতায় আনলেই বেরিয়ে আসবে ব্রাহমা কেলেঙ্কারির পুর্ণাঙ্গ ঘটনা।