গ্রামীণ ব্যাংককে ‘বৃক্ষ ব্যাংক’ উপাধিতে ভূষিত করলেন পরিবেশমন্ত্রী!

একদিনে তিন কোটি ও ২০২৪ সালে ৩০ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. একে এম সাইফুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী, বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ এবং উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার সাহা।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের ২৫২৮টি শাখার মাধ্যমে এক কোটি পাঁচ লাখ ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে সারাদেশে একদিনে তিন কোটি চারা লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান ড. একে এম সাইফুল মজিদ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বৃক্ষরোপণ নিয়ে এতো বড় কর্মযজ্ঞ আর হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আমি গ্রামীণ ব্যাংকে ‘বৃক্ষ ব্যাংক’ হিসেবে অভিহিত করতে চাই। 

তিনি আরও বলেন, একদিনে সারাদেশে তিন কোটি বৃক্ষরোপণ গ্রামীণ  ব্যাংকের সাংগঠনিক সক্ষমতাকেই প্রকাশ করে। দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় যেভাবে কাজ করছে গ্রামীণ ব্যাংক, আমরা চেষ্টা করবো রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দিতে।  

সভাপতির বক্তব্যে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. একে এম সাইফুল মজিদ বলেন, প্রথমদিকে দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হিসেবেই আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করি। পরবর্তীতে সারাদেশ থেকে আমরা চমৎকার সাড়া পাই এবং প্রতি বছর এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা একটি টেকসই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য লাগানো চারা গাছগুলোকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সারাদেশে ট্রেইনার নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করছি। আমরা প্রত্যাশা করি এই কর্মসূচি দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী বলেন, স্বচক্ষে  গ্রামীণ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেখে আমি অভিভূত। আমাকেও বিশেষ বরাদ্দে দুই লাখ চারা দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। আমি আমার এলাকা ঝিনাইদহে সাধারণ মানুষের কাছে এই গাছগুলো বিতরণ করবো।

উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, পূর্বে গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো জাতীয় দিবস উদযাপন হতো না। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব পাওয়ার পরই বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আগস্টের শোক দিবসের মতো দিবসগুলো গ্রামীণ ব্যাংকে পালিত হয়। দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণও আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যানের সুচিন্তার বহিঃপ্রকাশ। 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এই কর্মসূচি নবদিগন্তের সৃষ্টি করেছে। 

গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে এম সাইফুল মজিদ ২০২০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি সাধনে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার ফলে গ্রামীণ ব্যাংক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান মনে করেন, যেহেতু গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ নিয়ে কাজ করে সেহেতু তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুস্থ ও দূষণ মুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এই লক্ষ্যে ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে। 

প্রথম বছরই সারাদেশে প্রায় ৬১ লাখ ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করা হয়। যা ২০২১ সালে প্রায় ছয় কোটি ৬৩ লাখ, ২০২২ সালে প্রায় ১১ কোটি ৬২ লাখ এবং ২০২৩ সালে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করে কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর ৩০ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রামীণ ব্যাংকের।