যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাহমা জাতের গরু নিয়ে সাদিক এগ্রোর কেলেঙ্কারির বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেনসহ চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হতে পারে। এছাড়া সাভার গো-প্রজনন ও দুগ্ধখামারের পরিচালকসহ দুই তিনজনও মামলার আসামি হতে পারেন।
গেলো ৩ জুলাই সাদিক এগ্রোর খামার থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি ব্রাহমা প্রজাতির গরু। গরুর গায়ে থাকা কোড নম্বর দেখে দুদক নিশ্চিত হয়, এগুলো বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া ১৮টি গরুর ছয়টি।
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র এই গরু আমদানি করেছিলো সাদিক এগ্রো। বৈধতা না থাকায় ২০২১ সালে গরুগুলো জব্দ করে বিমানবন্দর কাস্টমস। পরে সেই গরু সাভারের সরকারি গো-প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হলে সেখান থেকেও কারসাজি করে সেগুলো নিজেদের খামারে নিয়ে যায় সাদিক এগ্রো।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজেদের খামারে এই গরুর প্রজননও করেছে সাদিক এগ্রো। যা ধরা পড়ে দুদকের গেলো পহেলা জুলাইয়ের অভিযানে। সেখানে সাতটি ব্রাহমা জাতের বাছুর উদ্ধার হয়। যা সাদিক এগ্রোর অবৈধ প্রজননের প্রমাণ।
গেলো ৩ মার্চ কেবল মাংস বিক্রির জন্য সাদিক এগ্রোকে ৪৪৮টি বিভিন্ন প্রজাতির গরু দেয় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধখামার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৫টি ছিলো ব্রাহমা। এসব গরুর মাংস বিক্রি না করে কথিত বংশ মর্যাদা সম্পন্ন গরু দাবি করে কোটি টাকায় বিক্রির চেষ্টা করে সাদিক এগ্রো।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সাভার গো-প্রজনন কেন্দ্র ও মন্ত্রণালয়। এ কারণে সাদিক এগ্রোর পাশাপাশি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও মামলার আসামি করতে যাচ্ছে দুদক।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, এনফোর্সমেন্ট টিম সরজমিনে দেখে এসে একটা রিপোর্ট দেবে। আমরা দেখেছি উনারা কিছু গরু জব্দ করেছেন। এই অনুসন্ধান টিমটা যখন রিপোর্ট দেবে, কমিশন তখন সিদ্ধান্ত নেবে কোনো লিগ্যাল এ্যাকশন কীভাবে নেয়া হবে।
পশু আমদানির আড়ালে সাদিক এগ্রো কোনো অর্থ পাচার করেছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে দুদক।