আত্মসমর্পণ করলেন শফিক রেহমান 

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাংবাদিক শফিক রেহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

এরপর মামলার আপিল দায়েরের জন্য নকল ও তার বিরুদ্ধে দেওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার রিকলের আবেদন করেন প্রবীণ এ সাংবাদিক। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

শফিক রেহমানের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে শফিক রেহমানের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত আপিল ফাইল করবো।

এর আগে শফিক রেহমানের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূইয়াঁ ওরফে মিল্টন ভূইয়াঁর সাজাও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

shakique Rehman

জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০১৫ সালের তিন আগস্ট পল্টন থানায় মামলা করে পুলিশ। এরপর ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমানকে। পাঁচ মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি।

একই মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট শফিক রেহমান এবং আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচ জনের পৃথক দুই ধারায় সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

অন্য তিনজন হলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূইয়াঁ।

সাজা মাথায় নিয়েই ছয় বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে গত ১৮ আগস্ট দেশে ফেরেন শফিক রেহমান। এরপর অসুস্থ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হতে হয় তাকে। 

আর একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানও সাড়ে পাঁচ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে শুক্রবার দেশে ফেরেন। রোববার আদালতে আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।