সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, ‘এবার ছয় মাস মানে, ছয় মাস’। বুধবার সেই তদন্ত ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এতে বলা হয়েছে, এদিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আলোচিত এই হত্যার তদন্ত শেষ করতে হবে।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আদেশে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর এই হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেয় হাইকোর্ট। ১১২ বার প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দিতে আবেদন করে।
ওই দিন সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। সেদিন সর্বোচ্চ আদালত বলে, আশা করি এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং তদন্তের জন্য দেওয়া এবারের ছয় মাস, মানে ছয় মাস।
আদালত আরও বলে, ১২ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া শুধু তার পরিবারের জন্য না, সমগ্র জাতির জন্য দুঃখজনক। বিচার বিভাগের জন্যও এটা কষ্টের কারণ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটি র্যাবে হস্তান্তর করা হয়।