আপিলেও স্থগিত রানা প্লাজার সোহেল রানার জামিন

সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক মানুষের নিহতের ঘটনায় পুলিশের করা হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানার জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে গত এক অক্টোবর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সোহেল রানাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। সেই সঙ্গে তার নিয়মিত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। 

Rana Plaza

তবে পরদিন দুই অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক সোহেল রানার জামিন স্থগিত করেন। 

তারও আগে ২০২৩ সালের ছয় এপ্রিল এ মামলায় সোহেল রানাকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ৯ এপ্রিল হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। 

২০২২ সালের মার্চে রানাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলকে যথাযথ ঘোষণা করেই গত ছয় এপ্রিল তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ১১ বছর পার হলেও বিচারিক আদালতে এই মামলা শেষ না হওয়ায় অসন্তোষ রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। 

Rana Plaza

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টর নির্দেশে মামলার বিচারকাজ বন্ধ ছিলো দীর্ঘদিন। সেই বাধা কাটিয়ে চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। এরই মধ্যে ১০০ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। 

রাষ্ট্রপক্ষ  নির্দিষ্ট সময়ে মামলার বিচার শেষ করার কথা বললেও শ্রমিক নেতারা বলছেন, এ ঘটনার পর তৈরি পোশাক কারখানার উন্নতি হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি ঘটেনি। রানা প্লাজার শ্রমিকদের ভিক্ষুকে পরিণত করা হয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর বেশ কয়েকটি মামলা হলেও হত্যা ও ইমারত বিধি লঙ্ঘনের মামলা দুটিই প্রধান। দুই মামলায় ভবন মালিক মো. সোহেল রানা কারাগারে থাকলেও অধিকাংশ আসামি জামিনে বা পলাতক রয়েছেন।

Rana

দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের এক জুন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যা মামলার চার্জশিটে ভবন মালিক সোহেল রানা, তার বাবা-মা এবং সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র, কমিশনারসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়। আর ইমারত বিধি লঙ্ঘন মামলার চার্জশিটে আসামি করা হয় সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে। সোহেল রানাসহ ১৭ জন দুই মামলারই আসামি। তবে তিন আসামি এরই মধ্যে মারা গেছেন। 

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা (১০ তলা ভবন) ধসে নিহত হন সহস্রাধিক মানুষ। যাদের প্রায় সবাই ছিলেন পোশাক কারখানার শ্রমিক। 

এর পাঁচ দিন পর ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে সোহেল রানা যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার হন।