রিকশার পাদানিতে ঝুলছিলো কপালে পতাকা বাঁধা নাফিজের নিথর দেহ। ঢাকা নগরীর রাজপথে অসহায় রিকশাচালক মোহাম্মদ নুরু নাফিজের সেই নিথর দেহ টেনে বেড়াচ্ছিলেন তার প্রাণ বাঁচানোর আশায়।
আন্দোলনে উত্তাল ঢাকার রাজপথে জীবন সাহার তোলা এই ছবি কাঁদিয়েছে পুরো দেশ। নাফিজকে বহন করা সেই রিকশাটি আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু রিকশাচালক নুরু ভোলেননি রক্তে ভিজে যাওয়া সেই নাফিজের স্মৃতি। চার আগস্ট বিকেলে গুলিবিদ্ধ নাফিজকে নিয়ে হাসপাতালে ছুঁটে গিয়েছিরেন নুরু।
আর সেই ছবিটি তুলেছিলেন এক সাংবাদিক। পাঁচ আগস্ট সেই ছবি কাঁদায় দেশবাসীকে। সেই ছবিই মা-বাবার কাছে তুলে ধরে তাদের সন্তানের পরিচয়। হাসপাতালের মর্গে নাফিজের নিথর দেহ খুঁজে পান তার মা-বাবা।
কিন্তু কেমন করে সেই অসহায় মুহূর্তটির মুখোমুখি হলেন নুরু? জানান, গুলি চলছিল বৃষ্টির মতো। পুলিশের আদেশে রক্তে ভেজা নাফিজকে পা দানিতে তুলে হাসপাতালে ছোটেন নুরু।
আজও তার আক্ষেপ, একটা মানুষ যদি ছেলেটাকে একটু ধরে রাখতো, তাহলে হয়তো রিকশাটা আরও জোরে টানা যেতো। দেশ কাঁপানো সেই ছবি কে কখন কীভাবে তুললো, সেটি নুরুর জানা ছিলো না।
কিন্তু এমন মুহূর্ত জানা থাকতে হয় ফটো সাংবাদিকদের। ঘটনা-দুর্ঘটনায় সবাই যখন দৌড়ে পালায়, তখন সাংবাদিককে সেখানেই ঝাঁপ দিতে হয়। সেই কথাই মনে করিয়ে দিলেন ফটোসাংবাদিক জীবন সাহা।
নুরুর সেই রিকশাই আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মারক। আজ থেকে বহু বছর পরও এই রিকশা একটি গণঅভ্যুত্থানের গল্প বলে যাবে। কিন্তু নতুন রিকশায় কি ঢাকা পড়বে নুরুর স্মৃতি?
নতুন রিকশার প্যাডেল চেপে আজও রাজপথে ঘুরে বেড়ান নুরু। আর, ভাবেন; কোনো রিকশা যেন আর কোনো দিনও অন্য কোনো নাফিজের শোকের গল্প না বলে।