মোল্লা কলেজে হামলা, আহত অনেক

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে (ডিএমআরসি) হামলা ও ভাঙচুর করেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অনেক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী সড়ক যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।  

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকে। পরে সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রায়সাহেব বাজারের দিকে অগ্রসর হয়ে সাত কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জড়ো হতে থাকে। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মোল্লা কলেজে হামলার ঘটনা ঘটে। 

এসময় মোল্লা কলেজের গেট ভাঙচুর করে ভেতরে ঢুকে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু জিনিস লুট করতে দেখা গেছে। ভাঙচুর ক্লাসরুম থেকে শুরু করে অফিস রুম, বাদ যায়নি কিছুই। 

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে সরে যায় কবি নজরুল ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে কলেজ কতৃপক্ষ জানায়, পুরো কলেজে চলেছে ধ্বংসলীলা। দেওয়া হয় আগুনও। এসময় লুটপাটের অভিযোগও করেন তারা।

কলেজটির সামনের পথচারীরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য না থাকায় দুই দল শিক্ষার্থী একরম ‘স্বাধীনভাবে’ হামলা, পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেখ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাজলা দনিয়া কলেজ এলাকায় লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতেও দেখা গেছে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. ফারুক জানান,  যাত্রাবাড়ীতে ডক্টর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ , শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন আহত হয়ে জরুরি বিভাগে এসেছেন। তবে সবাই শিক্ষার্থী নন। আহতদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নাই। 

এর আগে সোমবার ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউট, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব আরও কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। এসময়, দুই কলেজেই অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলছিলো। তারই প্রেক্ষিতে ঘোষণা দিয়েই  মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা হয়। 

তবে, ঘটনার সূত্রপাত আরও সপ্তাহ খানেক আগে। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই শিক্ষার্থী মারা গেলে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল ঘেরাও করে। এই নিয়ে কয়েক দফায় মীমাংসাও হয়। পরে রোববার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আরও কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউট, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা চালায়।