রাজধানীতে দিনভর তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজ ভাঙচুরের প্রতিবাদে সোমবার ‘মেগা মানডে’ ঘোষণা করে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঘোষণা অনুযায়ী ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে (ডিএমআরসি) হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও নজরুল কলেজের শত শত শিক্ষার্থী মোল্লা কলেজে গিয়ে হামলা চালান। সেখানে মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী ও নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মোল্লা কলেজে নির্বিঘ্নে ভাঙচুর করে।
তাদের বাধা দেওয়া বা রাস্তায় আটকাতে পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। তারা অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাইকিং করে মোল্লা কলেজে ভাঙচুর করে। তাদের সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়।
পরে বেলা ১টার দিকে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকা। চলতে থাকে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ।
এর আগে ‘মেগা মানডে’ ঘোষণা দিয়ে কবি নজরুল কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে মোল্লা কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হন এই দুই কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী। অপরদিকে মোল্লা কলেজের ছাত্ররাও অবস্থান নেন সড়কে। সংঘর্ষ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা হামলা ও একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটের টুকরো নিক্ষেপ করে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও হামলায় ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ২০ জন এবং যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইলের স্থানীয় ক্লিনিকে অন্তত ৩৩ জন চিকিৎসা নেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মোল্লা কলেজের ছাত্র অভিজিত। মৃত্যুর জন্য চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ২১ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোল্লা কলেজে হামলা চালায়।
হামলার পর অভিজিতের মৃত্যু ও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার মোল্লা কলেজ, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও নটরডেম কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়। শিক্ষার্থীদের জমায়েত কবি নজরুল কলেজ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।